মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মুলাদীতে সরকারি অনুদানের তালিকা নিয়ে দ্বন্দ্ব: ইমামকে হাতুড়িপেটা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের মুলাদীতে এক মসজিদের ইমামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অনুদানের মুয়াজ্জিন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের প্যাদারহাট সিকদারবাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ইমামের নাম মুফতি মাহফুজুর রহমান (২৯)। তিনি কাজিরচর ইউনিয়নের বড়ইয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন রাড়ীর ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— ডিক্রীরচর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে মিজান সিকদার (৪৫) এবং তার ছেলে রাকিব সিকদার (১৮)।

স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অনুদান প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় থেকে উপজেলার সকল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের তালিকা চাওয়া হয়। সেই তালিকার জন্য প্যাদারহাট সিকদারবাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ থেকে ইমাম মাহফুজুর রহমান মুয়াজ্জিন হিসেবে বয়োজ্যেষ্ঠ নূরে আলম সিকদার নামে একজনের নাম পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হন একই পদে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী রাকিব সিকদার ও তার বাবা মিজান সিকদার। এ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমামের সঙ্গে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে ইমাম মাহফুজুর রহমান মসজিদ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিজান সিকদার ও তার ছেলে রাকিব সিকদার তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তারা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ইমামকে গুরুতর আহত করেন। পরে আশপাশের মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত ইমাম মুফতি মাহফুজুর রহমান বলেন, “গ্রামের মসজিদ হওয়ায় এখানে নির্দিষ্ট কোনো বেতনভুক্ত মুয়াজ্জিন নেই। নূরে আলম সিকদার ও রাকিব সিকদার— দুজনেই সময় সুযোগ বুঝে আজান দেন। তবে নূরে আলম বয়সে জ্যেষ্ঠ হওয়ায় মসজিদ কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার নামই তালিকায় পাঠানো হয়েছিল।”

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে আহত ইমামের বাবা মোশাররফ হোসেন রাড়ী বাদী হয়ে মিজান সিকদার ও রাকিব সিকদারকে আসামি করে মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সোহেল রানা জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে লুটপাট, অর্থপাচার নিয়ে এপিজি’র উদ্বেগ

মুলাদীতে সরকারি অনুদানের তালিকা নিয়ে দ্বন্দ্ব: ইমামকে হাতুড়িপেটা

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের মুলাদীতে এক মসজিদের ইমামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অনুদানের মুয়াজ্জিন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের প্যাদারহাট সিকদারবাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ইমামের নাম মুফতি মাহফুজুর রহমান (২৯)। তিনি কাজিরচর ইউনিয়নের বড়ইয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন রাড়ীর ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— ডিক্রীরচর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে মিজান সিকদার (৪৫) এবং তার ছেলে রাকিব সিকদার (১৮)।

স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অনুদান প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় থেকে উপজেলার সকল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের তালিকা চাওয়া হয়। সেই তালিকার জন্য প্যাদারহাট সিকদারবাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ থেকে ইমাম মাহফুজুর রহমান মুয়াজ্জিন হিসেবে বয়োজ্যেষ্ঠ নূরে আলম সিকদার নামে একজনের নাম পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হন একই পদে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী রাকিব সিকদার ও তার বাবা মিজান সিকদার। এ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমামের সঙ্গে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে ইমাম মাহফুজুর রহমান মসজিদ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিজান সিকদার ও তার ছেলে রাকিব সিকদার তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তারা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ইমামকে গুরুতর আহত করেন। পরে আশপাশের মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত ইমাম মুফতি মাহফুজুর রহমান বলেন, “গ্রামের মসজিদ হওয়ায় এখানে নির্দিষ্ট কোনো বেতনভুক্ত মুয়াজ্জিন নেই। নূরে আলম সিকদার ও রাকিব সিকদার— দুজনেই সময় সুযোগ বুঝে আজান দেন। তবে নূরে আলম বয়সে জ্যেষ্ঠ হওয়ায় মসজিদ কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার নামই তালিকায় পাঠানো হয়েছিল।”

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে আহত ইমামের বাবা মোশাররফ হোসেন রাড়ী বাদী হয়ে মিজান সিকদার ও রাকিব সিকদারকে আসামি করে মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সোহেল রানা জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।