মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

স্তনে টিউমার: ক্যানসার নয়, তবে অবহেলা নয়; কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: স্তনে যেকোনো ধরনের গুটি বা টিউমার দেখা দিলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, স্তনের সব টিউমারই ক্যানসার নয়। কিছু টিউমার নিরীহ বা বিনাইন প্রকৃতির হলেও কিছু ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারজাতীয় হতে পারে। তাই স্তনে নতুন কোনো অস্বাভাবিকতা বা গুটি দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর সঠিক প্রকৃতি নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি।

যখন স্তনের কোষগুলো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন সেখানে গুটি বা টিউমার তৈরি হতে পারে। এই টিউমারের প্রকৃতি নির্ভর করে তার কোষীয় গঠন, বৃদ্ধির ধরণ এবং আশপাশের টিস্যুর সঙ্গে এর সম্পর্কের ওপর। সাধারণভাবে, স্তনের টিউমারকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: বিনাইন (নিরীহ) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারজাতীয়)।

স্তনের টিউমারের পেছনে একক কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে কিছু বিষয় স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—বয়স বৃদ্ধি, হরমোনের পরিবর্তন, পারিবারিক ইতিহাস (বিশেষ করে মা বা বোনের স্তন ক্যানসার থাকা), জিনগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং অতীতে বুকে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার ইতিহাস। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, অনেক স্তন ক্যানসারের রোগীর ক্ষেত্রে বয়স ও নারী হওয়া ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ঝুঁকির কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই ঝুঁকির কারণ না থাকলেও স্তনের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

বিনাইন টিউমার সাধারণত ক্যানসার নয় এবং এটি শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা স্তনের একটি পরিচিত বিনাইন টিউমার, যা সাধারণত শক্ত, মসৃণ এবং নড়াচড়া করতে পারে। এছাড়া স্তনে সিস্ট (তরল ভর্তি থলি) এবং ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তনও গুটি বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হলো ক্যানসারজাতীয় টিউমার। এটি আশপাশের টিস্যুতে আক্রমণ করতে পারে এবং লসিকাগ্রন্থি বা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যার মধ্যে ইনভেসিভ ডাক্টাল কার্সিনোমা ও ইনভেসিভ লোবিউলার কার্সিনোমা উল্লেখযোগ্য।

স্তনের টিউমারের লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ও টিউমারের ধরনের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ সতর্কীকরণ লক্ষণ রয়েছে যা অবহেলা করা উচিত নয়:

* স্তনে নতুন কোনো গুটি বা শক্ত অংশ অনুভূত হওয়া।

* স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা।

* স্তনের কোনো অংশ অস্বাভাবিকভাবে মোটা বা শক্ত হয়ে যাওয়া।

* নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।

* নিপল দিয়ে অস্বাভাবিক তরল বা রক্ত মিশ্রিত নিঃসরণ হওয়া।

* স্তনের ত্বকে কুঁচকে যাওয়া বা টান টান ভাব দেখা দেওয়া।

* ত্বক কমলার খোসার মতো পরিবর্তিত হওয়া।

* স্তনের কোনো অংশে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করা।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগে দলীয়করণ: বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্তনে টিউমার: ক্যানসার নয়, তবে অবহেলা নয়; কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

আপডেট সময় : ০৩:২০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: স্তনে যেকোনো ধরনের গুটি বা টিউমার দেখা দিলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, স্তনের সব টিউমারই ক্যানসার নয়। কিছু টিউমার নিরীহ বা বিনাইন প্রকৃতির হলেও কিছু ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারজাতীয় হতে পারে। তাই স্তনে নতুন কোনো অস্বাভাবিকতা বা গুটি দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর সঠিক প্রকৃতি নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি।

যখন স্তনের কোষগুলো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন সেখানে গুটি বা টিউমার তৈরি হতে পারে। এই টিউমারের প্রকৃতি নির্ভর করে তার কোষীয় গঠন, বৃদ্ধির ধরণ এবং আশপাশের টিস্যুর সঙ্গে এর সম্পর্কের ওপর। সাধারণভাবে, স্তনের টিউমারকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: বিনাইন (নিরীহ) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারজাতীয়)।

স্তনের টিউমারের পেছনে একক কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে কিছু বিষয় স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—বয়স বৃদ্ধি, হরমোনের পরিবর্তন, পারিবারিক ইতিহাস (বিশেষ করে মা বা বোনের স্তন ক্যানসার থাকা), জিনগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং অতীতে বুকে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার ইতিহাস। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, অনেক স্তন ক্যানসারের রোগীর ক্ষেত্রে বয়স ও নারী হওয়া ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ঝুঁকির কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই ঝুঁকির কারণ না থাকলেও স্তনের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

বিনাইন টিউমার সাধারণত ক্যানসার নয় এবং এটি শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা স্তনের একটি পরিচিত বিনাইন টিউমার, যা সাধারণত শক্ত, মসৃণ এবং নড়াচড়া করতে পারে। এছাড়া স্তনে সিস্ট (তরল ভর্তি থলি) এবং ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তনও গুটি বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হলো ক্যানসারজাতীয় টিউমার। এটি আশপাশের টিস্যুতে আক্রমণ করতে পারে এবং লসিকাগ্রন্থি বা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যার মধ্যে ইনভেসিভ ডাক্টাল কার্সিনোমা ও ইনভেসিভ লোবিউলার কার্সিনোমা উল্লেখযোগ্য।

স্তনের টিউমারের লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ও টিউমারের ধরনের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ সতর্কীকরণ লক্ষণ রয়েছে যা অবহেলা করা উচিত নয়:

* স্তনে নতুন কোনো গুটি বা শক্ত অংশ অনুভূত হওয়া।

* স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা।

* স্তনের কোনো অংশ অস্বাভাবিকভাবে মোটা বা শক্ত হয়ে যাওয়া।

* নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।

* নিপল দিয়ে অস্বাভাবিক তরল বা রক্ত মিশ্রিত নিঃসরণ হওয়া।

* স্তনের ত্বকে কুঁচকে যাওয়া বা টান টান ভাব দেখা দেওয়া।

* ত্বক কমলার খোসার মতো পরিবর্তিত হওয়া।

* স্তনের কোনো অংশে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করা।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।