মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলা: খলনায়ক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

ডনের পক্ষে তার আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের আবেদনে বলা হয়, হাজতি আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার ও গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই এবং তিনি কথিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ডনের জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে ৯ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, আসামি ডনকে বিমানবন্দর থেকে ভোর ৫টায় আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তিনি দীর্ঘদিন এই মামলায় পলাতক ছিলেন এবং তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আসামির জামিনে মুক্তি পেলে মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে এবং তিনি চিরপলাতক হতে পারেন। এমতাবস্থায় তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা যান। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালত অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। পরে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই বিষয়ে শুনানিতে ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোদাগাড়ীতে অনিয়ম-অভিযোগে ক্লিনিক সিলগালা

সালমান শাহ হত্যা মামলা: খলনায়ক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

আপডেট সময় : ০৪:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

ডনের পক্ষে তার আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের আবেদনে বলা হয়, হাজতি আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার ও গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই এবং তিনি কথিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ডনের জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে ৯ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, আসামি ডনকে বিমানবন্দর থেকে ভোর ৫টায় আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তিনি দীর্ঘদিন এই মামলায় পলাতক ছিলেন এবং তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আসামির জামিনে মুক্তি পেলে মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে এবং তিনি চিরপলাতক হতে পারেন। এমতাবস্থায় তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা যান। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালত অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। পরে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই বিষয়ে শুনানিতে ছিলেন।