জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অনুষ্ঠিত কান, নাক ও গলাবিষয়ক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিশেষ বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের কৃতি চিকিৎসক ডা. মুখলেসুর রহমান। মাত্র ছয় মাস বয়সী এক শিশুর অত্যন্ত বিরল ও জন্মগত শারীরিক ত্রুটির সফল অস্ত্রোপচারের কেস স্টাডি উপস্থাপন করে তিনি এই অনন্য সম্মাননা লাভ করেন।
ডা. মুখলেসুর রহমান বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ইউনিট প্রধান হিসেবে কর্মরত। গত জুলাই মাসে বার্লিনে অনুষ্ঠিত ‘তৃতীয় গ্লোবাল সামিট অন ইয়ার, নোজ অ্যান্ড থ্রোট স্টাডিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি তার এই সফল অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
সম্মেলনের মূল পর্বে ডা. রহমান সুনামগঞ্জের শিশু রিফাত হাসানের বিরল অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়াটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। শিশুটির নাকের পাশে একটি অতিরিক্ত ছিদ্র ছিল, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘সুপারনিউমেরারি নস্ট্রিল’ নামে পরিচিত। উপস্থাপনা শেষে আন্তর্জাতিক ফেসিয়াল প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডা. দারিনকা হাঙ্গা তাকে বিশেষ ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ প্রদান করেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বিশ্বে এ ধরনের বিরল কেস এ পর্যন্ত মাত্র ৪০টিরও কম নথিভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের সফল বাস্তবায়ন এটিই প্রথম। ডা. মুখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কপাল ও সাইনাসের কোনো ক্ষতি না করে এই সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক অর্জন সম্পর্কে ডা. মুখলেসুর রহমান বলেন, ২০টি দেশের ৫৮ জন আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এই সম্মেলনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা অত্যন্ত গর্বের। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের এই সাফল্য বিশ্বদরবারে আমাদের সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।
রিপোর্টারের নাম 
























