হবিগঞ্জের বাহুবলে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বাদী সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা শৈবালকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই হুমকি আসার পর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
রবিবার পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে এই আবেদন জমা দেন গোলাম মোস্তফা শৈবাল। আবেদনে তিনি মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আসা প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পাল্টা মামলাটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
শৈবাল আবেদনে উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাকে বর্তমানে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে এবং তার পরিবারের সদস্যরাও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভয়ের কারণে তার স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তান নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা শৈবাল হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রকিবসহ সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত ১৬ জুলাই উপজেলা পরিষদে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর সংগ্রহের জন্য সেখানে গেলে শৈবালের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও গোলাম মোস্তফা আহত হন। হাবিবুর রহমানকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও, শৈবালকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা রুজু করতে গড়িমসি করায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে থানায় মামলা রুজু করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 



















