রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় কৃষিজমির চিরাচরিত দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। ধানের বদলে এখন আবাদি জমি, বাড়ির আঙিনা এমনকি রাস্তার ধারেও শোভা পাচ্ছে সারি সারি তেজপাতা গাছ। লাভজনক হওয়া এবং ঝুঁকি কম থাকায় এই অঞ্চলের কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতা চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে টেপামধুপুর, বাজে-মজকুর ও রাজীব গ্রামের কৃষকদের কাছে তেজপাতা এখন আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, ধান বা আলু চাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু তেজপাতা চাষে একবার গাছ লাগালে দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও নগণ্য। একটি পরিণত গাছ থেকে বছরে দুইবার পাতা সংগ্রহ করে প্রায় ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। ফলে অনেক কৃষকই এখন তাদের পতিত জমিতে এই সুগন্ধি মসলার আবাদ বাড়াচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কাউনিয়া অঞ্চলে এ বছর ১৩৭ হেক্টর জমিতে তেজপাতার চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০৭ টন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই তেজপাতা দেশের অন্যান্য স্থানেও সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকদের এই আর্থিক সচ্ছলতা দেখে কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তেজপাতা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম রপ্তানি পণ্যের তালিকায় স্থান করে নিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























