চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক ও লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কোনো বড় ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দুবাই ভিত্তিক লজিস্টিকস কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এই টার্মিনালের কর্তৃত্ব হস্তান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বর্তমানে নতুন করে বিশ্লেষণ চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচিত সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এসব বিতর্কিত চুক্তি পর্যালোচনার ওপর জোর দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রায় ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা সরকারি ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব আধুনিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পিপিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তৎকালীন মুখ্য সচিবদের সরাসরি মদদে এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও মানিলন্ডারিংয়ের তদন্ত ধামাচাপা দিতে আরব আমিরাত সরকারকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যেই এই জাতীয় সম্পদকে বিদেশের হাতে তুলে দেওয়ার গোপন সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বন্দর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনসিটি পরিচালনার জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও জনবল রয়েছে। শুধু সফটওয়্যার আধুনিকায়ন ছাড়া সেখানে নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নেই। অথচ ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ধুয়া তুলে দেশের সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনালটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা। বর্তমান সরকারের আমলে এই চুক্তি বা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
রিপোর্টারের নাম 























