মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

হার্ট অ্যাটাক রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উচ্চ উপস্থিতি: নতুন গবেষণা

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা বলছে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি ও অন্য হৃদরোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রোমের স্যাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্তআন্দ্রেয়া হাসপাতালের ড. পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় মোট ৬১ জন রোগীর হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী, দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী (যাদের হার্ট অ্যাটাক হয়নি) এবং ধমনিতে কোনো রোগের লক্ষণ নেই এমন সুস্থ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ ধমনিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ শতাংশ।

গবেষকরা আরও পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ধূমপান এবং নিয়মিত বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়াতে পারে। ধূমপায়ী এবং নিয়মিত দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকা অংশগ্রহণকারীদের সবার রক্তেই উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক সনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. ইমানুয়েল বারবাটো উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফল থেকে সরাসরি মাইক্রোপ্লাস্টিককেই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তবে, পরিবেশ দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদরোগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা সহজে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে।

জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস দাইবার তাঁর এক সম্পাদকীয় মন্তব্যে বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ হৃদ্‌রোগের একটি অবমূল্যায়িত ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। তাঁর মতে, প্লাস্টিক কণার সঙ্গে তীব্র হৃদরোগের ঘটনার সম্পর্ক নিয়ে এটি প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মঙ্গলের রোভার যাচ্ছে চন্দ্রাভিযানে: নতুন ‘প্রমিস’ প্রজেক্ট উন্মোচন করল নাসা

হার্ট অ্যাটাক রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উচ্চ উপস্থিতি: নতুন গবেষণা

আপডেট সময় : ১২:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা বলছে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি ও অন্য হৃদরোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রোমের স্যাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্তআন্দ্রেয়া হাসপাতালের ড. পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় মোট ৬১ জন রোগীর হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী, দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী (যাদের হার্ট অ্যাটাক হয়নি) এবং ধমনিতে কোনো রোগের লক্ষণ নেই এমন সুস্থ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ ধমনিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ শতাংশ।

গবেষকরা আরও পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ধূমপান এবং নিয়মিত বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়াতে পারে। ধূমপায়ী এবং নিয়মিত দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকা অংশগ্রহণকারীদের সবার রক্তেই উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক সনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. ইমানুয়েল বারবাটো উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফল থেকে সরাসরি মাইক্রোপ্লাস্টিককেই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তবে, পরিবেশ দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদরোগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা সহজে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে।

জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস দাইবার তাঁর এক সম্পাদকীয় মন্তব্যে বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ হৃদ্‌রোগের একটি অবমূল্যায়িত ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। তাঁর মতে, প্লাস্টিক কণার সঙ্গে তীব্র হৃদরোগের ঘটনার সম্পর্ক নিয়ে এটি প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা।