মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

গোদাগাড়ীতে বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মোসা. কমলি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, অপারেশন ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

মৃত কমলি বেগমের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হলে কমলি বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌর সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের স্ত্রী কমলি বেগমকে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সন্তান প্রসবের জন্য গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে রাত ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত অস্ত্রোপচার করেন এবং অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তানজিল কুমার। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। প্রসূতির ভাতিজা রুবেল ইসলাম তার চাচি পারভিন বেগমের বরাত দিয়ে বলেন, অপারেশনে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি জানালা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি বড় চাদর রক্তে ভেজা অবস্থায় দেখতে পান বলে তিনি দাবি করেন।

রুবেল ইসলাম আরও অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় একটি রক্তনালি কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, ওই সময় হাসপাতালে না রেখে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কমলি বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুল খালেক জানান, ডা. শারমিন শওকত অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. তানজিল কুমার, হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকতও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন এবং চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ প্রকাশিত হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, যেভাবে জানবেন

গোদাগাড়ীতে বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মোসা. কমলি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, অপারেশন ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

মৃত কমলি বেগমের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হলে কমলি বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌর সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের স্ত্রী কমলি বেগমকে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সন্তান প্রসবের জন্য গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে রাত ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত অস্ত্রোপচার করেন এবং অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তানজিল কুমার। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। প্রসূতির ভাতিজা রুবেল ইসলাম তার চাচি পারভিন বেগমের বরাত দিয়ে বলেন, অপারেশনে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি জানালা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি বড় চাদর রক্তে ভেজা অবস্থায় দেখতে পান বলে তিনি দাবি করেন।

রুবেল ইসলাম আরও অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় একটি রক্তনালি কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, ওই সময় হাসপাতালে না রেখে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কমলি বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুল খালেক জানান, ডা. শারমিন শওকত অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. তানজিল কুমার, হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকতও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন এবং চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেছেন।