মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ বহালের দাবিতে জবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বিদ্যমান এনটিআরসিএর (NTRCA) কেন্দ্রীয় সুপারিশ পদ্ধতি বহাল রাখার দাবিতে এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে একটি মিছিল বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী এবং শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা প্রত্যাশীরা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে জনসন রোডের দিকে যায়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘মেধার মূল্যায়ন চাই’, ‘এনটিআরসিএ বহাল রাখতে হবে’, ‘শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি চলবে না’, ‘কমিটি পদ্ধতি মানি না, মানব না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ফিরিয়ে দেওয়া হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও বলেন, দেশের লাখো নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাই বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যত বেশি কেন্দ্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, তত বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে অনিয়ম, তদবির ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমাবেশ থেকে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, একাধিক অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত

শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ বহালের দাবিতে জবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বিদ্যমান এনটিআরসিএর (NTRCA) কেন্দ্রীয় সুপারিশ পদ্ধতি বহাল রাখার দাবিতে এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে একটি মিছিল বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী এবং শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা প্রত্যাশীরা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে জনসন রোডের দিকে যায়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘মেধার মূল্যায়ন চাই’, ‘এনটিআরসিএ বহাল রাখতে হবে’, ‘শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি চলবে না’, ‘কমিটি পদ্ধতি মানি না, মানব না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ফিরিয়ে দেওয়া হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও বলেন, দেশের লাখো নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাই বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যত বেশি কেন্দ্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, তত বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে অনিয়ম, তদবির ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমাবেশ থেকে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।