মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

বনলতা লেন: ইট-পাথরের শহরে এক চিলতে আশ্রয়ের গল্প

নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে প্রকৃতিতে শীতের আমেজ আসার কথা থাকলেও রাজধানী ঢাকায় তার দেখা মিলছিল না তেমন। তবে গত দুদিনের হঠাৎ ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিতে নগরে খানিকটা ঠান্ডা জেঁকে বসেছে। এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার মধ্যেই অফিস শেষে বের হতে হলো নতুন এক বাসার সন্ধানে। ডিসেম্বর মাস আসার আগেই নতুন ঠিকানা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ সাধারণত মাসের প্রথম সপ্তাহেই ভালো বাসাগুলো হাতছাড়া হয়ে যায়।

পারিবারিক শোকের কারণে সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি যেতে হয়েছিল। দাদিকে হারানোর সেই বিষণ্ণতা কাটিয়ে ফেরার পর শুরু হয়েছে এই নতুন যুদ্ধ। যাওয়ার আগে বেশ কিছু বাসা দেখলেও সাধ্যের সঙ্গে পছন্দের মিল না হওয়ায় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। রাজধানীতে এখন মধ্যবিত্তের বাজেটে মানসম্মত বাসা পাওয়া যেন এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ। আজ তাই মনে মনে সংকল্প করেই নেমেছি, যেভাবেই হোক একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে বের করতে হবে। ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর কর্দমাক্ত রাস্তার ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ছাতা ছাড়াই হাঁটছিলাম, ভেবেছিলাম বৃষ্টি থেমে যাবে কিন্তু তা আর হলো না।

অফিসের সহকর্মী কনা ছাতা নিয়ে এগিয়ে আসায় কিছুটা স্বস্তি মিলল। রাস্তার দেয়ালে সাঁটানো অসংখ্য ‘টু-লেট’ দেখে ফোন দিলেও মিলছে কেবল নেতিবাচক উত্তর। মাসের ১৯ তারিখ হওয়ার কারণে অধিকাংশ বাসাই ইতোমধ্যে ভাড়া হয়ে গেছে। হাঁটতে হাঁটতে এক গলির মুখে এসে দাঁড়ালাম, যেখানে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের ভিড়ে একটি দিকনির্দেশনা নজরে পড়ল—’বনলতা লেন’। নামটা দেখে মুহূর্তের জন্য বিভ্রম হলো, মনে হলো জীবনানন্দ দাশের সেই বিখ্যাত কবিতার নাম। কিন্তু না, এটি বনলতা সেন নয়, বনলতা লেন।

গলির ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিলল পুরোনো স্থাপত্যের কিছু ভবন। কোনো নির্দিষ্ট প্রকৌশলবিদ্যার তোয়াক্কা না করেই গড়ে ওঠা এই ভবনগুলোর পাশেই একটি মন্দির। তিনতলার দক্ষিণ পাশের একটি ফ্ল্যাট দেখতে গেলাম। আলো-বাতাস মোটামুটি থাকলেও ফ্ল্যাটটি বেশ পুরোনো ধাঁচের। পাশের ভবনটি নিচু হওয়ায় বারান্দা দিয়ে আকাশের দেখা মেলে, যা এই ঘিঞ্জি শহরে এক বড় প্রাপ্তি। তবে সঙ্গের কনা মনে করিয়ে দিল মন্দিরের শব্দের কথা। সরু রাস্তা, পুরোনো মেঝে আর ছোট ছোট ঘরের এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও এক চিলতে আশ্রয়ের খোঁজ যেন এই শহরের চিরচেনা এক নাগরিক বাস্তবতা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সির বাড়িতে মধ্যরাতে গুলিবর্ষণ, অল্পের জন্য রক্ষা

বনলতা লেন: ইট-পাথরের শহরে এক চিলতে আশ্রয়ের গল্প

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে প্রকৃতিতে শীতের আমেজ আসার কথা থাকলেও রাজধানী ঢাকায় তার দেখা মিলছিল না তেমন। তবে গত দুদিনের হঠাৎ ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিতে নগরে খানিকটা ঠান্ডা জেঁকে বসেছে। এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার মধ্যেই অফিস শেষে বের হতে হলো নতুন এক বাসার সন্ধানে। ডিসেম্বর মাস আসার আগেই নতুন ঠিকানা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ সাধারণত মাসের প্রথম সপ্তাহেই ভালো বাসাগুলো হাতছাড়া হয়ে যায়।

পারিবারিক শোকের কারণে সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি যেতে হয়েছিল। দাদিকে হারানোর সেই বিষণ্ণতা কাটিয়ে ফেরার পর শুরু হয়েছে এই নতুন যুদ্ধ। যাওয়ার আগে বেশ কিছু বাসা দেখলেও সাধ্যের সঙ্গে পছন্দের মিল না হওয়ায় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। রাজধানীতে এখন মধ্যবিত্তের বাজেটে মানসম্মত বাসা পাওয়া যেন এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ। আজ তাই মনে মনে সংকল্প করেই নেমেছি, যেভাবেই হোক একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে বের করতে হবে। ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর কর্দমাক্ত রাস্তার ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ছাতা ছাড়াই হাঁটছিলাম, ভেবেছিলাম বৃষ্টি থেমে যাবে কিন্তু তা আর হলো না।

অফিসের সহকর্মী কনা ছাতা নিয়ে এগিয়ে আসায় কিছুটা স্বস্তি মিলল। রাস্তার দেয়ালে সাঁটানো অসংখ্য ‘টু-লেট’ দেখে ফোন দিলেও মিলছে কেবল নেতিবাচক উত্তর। মাসের ১৯ তারিখ হওয়ার কারণে অধিকাংশ বাসাই ইতোমধ্যে ভাড়া হয়ে গেছে। হাঁটতে হাঁটতে এক গলির মুখে এসে দাঁড়ালাম, যেখানে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের ভিড়ে একটি দিকনির্দেশনা নজরে পড়ল—’বনলতা লেন’। নামটা দেখে মুহূর্তের জন্য বিভ্রম হলো, মনে হলো জীবনানন্দ দাশের সেই বিখ্যাত কবিতার নাম। কিন্তু না, এটি বনলতা সেন নয়, বনলতা লেন।

গলির ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিলল পুরোনো স্থাপত্যের কিছু ভবন। কোনো নির্দিষ্ট প্রকৌশলবিদ্যার তোয়াক্কা না করেই গড়ে ওঠা এই ভবনগুলোর পাশেই একটি মন্দির। তিনতলার দক্ষিণ পাশের একটি ফ্ল্যাট দেখতে গেলাম। আলো-বাতাস মোটামুটি থাকলেও ফ্ল্যাটটি বেশ পুরোনো ধাঁচের। পাশের ভবনটি নিচু হওয়ায় বারান্দা দিয়ে আকাশের দেখা মেলে, যা এই ঘিঞ্জি শহরে এক বড় প্রাপ্তি। তবে সঙ্গের কনা মনে করিয়ে দিল মন্দিরের শব্দের কথা। সরু রাস্তা, পুরোনো মেঝে আর ছোট ছোট ঘরের এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও এক চিলতে আশ্রয়ের খোঁজ যেন এই শহরের চিরচেনা এক নাগরিক বাস্তবতা।