মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

২৪ বছর ধরে শয্যাশায়ী তুলি: চিকিৎসার জন্য বাবা-মায়ের আকুতি

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নে বাবা-মায়ের সঙ্গে নীরবে জীবন কাটছে ২৪ বছর বয়সী তুলি আক্তারের। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ২৪ বছর হলেও, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠেনি। মাত্র ৩ ফুট উচ্চতার তুলি কথা বলতে পারে না এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তিও নেই। তার প্রয়োজন, ক্ষুধা বা অসুস্থতা—কোনো কিছুই সে মুখে প্রকাশ করতে পারে না, কেবল নীরবে তাকিয়ে থাকে।

তুলির বাবা মো. আবজাল শেখ একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। মাছ না পেলে আয়ও থাকে না। এই অনিশ্চিত আয় থেকে স্ত্রী ও মেয়ের ভরণপোষণের পাশাপাশি তুলির চিকিৎসা, খাবার ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। তুলির মা মর্জিনা বেগম মেয়ের কোনো বোঝা মনে করেন না, বরং তাকে নিজের বুকের ধন হিসেবে দেখেন। মেয়ের মুখে কথা না থাকলেও তার প্রয়োজন তিনি চোখে-মুখে তাকিয়েই বুঝতে পারেন। মেয়ের সামান্য অসুস্থতা বা অস্বস্তিও মায়ের মনে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করে। সারা দিন মেয়েকে আগলে রাখাই যেন মর্জিনা বেগমের জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের কারণে সার্বক্ষণিক যত্ন নিতে হয়। মেয়ের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি মেয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাবার এবং সরকারি সহায়তার পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ চান। তুলির সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলেও, পরিবারের দাবি—বর্তমানে প্রাপ্ত সহায়তা তার চিকিৎসা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। মোংলা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা প্রদান করা হয়, তবে তুলির মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আরও সমন্বিত ও বর্ধিত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে হামের প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ মৃত্যু, ৯১ ভর্তি

২৪ বছর ধরে শয্যাশায়ী তুলি: চিকিৎসার জন্য বাবা-মায়ের আকুতি

আপডেট সময় : ০১:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নে বাবা-মায়ের সঙ্গে নীরবে জীবন কাটছে ২৪ বছর বয়সী তুলি আক্তারের। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ২৪ বছর হলেও, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠেনি। মাত্র ৩ ফুট উচ্চতার তুলি কথা বলতে পারে না এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তিও নেই। তার প্রয়োজন, ক্ষুধা বা অসুস্থতা—কোনো কিছুই সে মুখে প্রকাশ করতে পারে না, কেবল নীরবে তাকিয়ে থাকে।

তুলির বাবা মো. আবজাল শেখ একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। মাছ না পেলে আয়ও থাকে না। এই অনিশ্চিত আয় থেকে স্ত্রী ও মেয়ের ভরণপোষণের পাশাপাশি তুলির চিকিৎসা, খাবার ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। তুলির মা মর্জিনা বেগম মেয়ের কোনো বোঝা মনে করেন না, বরং তাকে নিজের বুকের ধন হিসেবে দেখেন। মেয়ের মুখে কথা না থাকলেও তার প্রয়োজন তিনি চোখে-মুখে তাকিয়েই বুঝতে পারেন। মেয়ের সামান্য অসুস্থতা বা অস্বস্তিও মায়ের মনে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করে। সারা দিন মেয়েকে আগলে রাখাই যেন মর্জিনা বেগমের জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের কারণে সার্বক্ষণিক যত্ন নিতে হয়। মেয়ের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি মেয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাবার এবং সরকারি সহায়তার পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ চান। তুলির সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলেও, পরিবারের দাবি—বর্তমানে প্রাপ্ত সহায়তা তার চিকিৎসা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। মোংলা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা প্রদান করা হয়, তবে তুলির মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আরও সমন্বিত ও বর্ধিত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।