জুলাই ২০২৪-এর সেই উত্তাল দিনগুলো, যখন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অন্তিমকাল স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, তখন ঢাকা শহর এক ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছিল। ভয়কে জয় করে মানুষ রাজপথে নেমেছিল, অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল বিক্ষোভের আগুন। সারা দেশ বিক্ষোভে উত্তাল, পথঘাট বিক্ষোভকারীদের রক্তে রঞ্জিত। বাতাসে তখন টিয়ারগ্যাস আর বারুদের গন্ধ। পুলিশের উন্মত্ত চেহারা তখনো ফিকে হয়ে ওঠেনি। রাজধানীর মোড়ে মোড়ে সশস্ত্র প্রহরার দায়িত্বে ছিল বিগত সরকারের সমর্থক গোষ্ঠী—ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।
সেই সময়ে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে আসে সেই সময়ের ঢাকার চিত্র। ৩৫ জুলাইয়ের (সম্ভাব্য ২৫ জুলাই) সকালে বনশ্রীতে অফিসগামী একজন বাবর রোডের বাসা থেকে বের হয়ে কলেজগেট বাসস্ট্যান্ডে যান। কিন্তু সেদিন কোনো গণপরিবহন ছিল না। চারদিকে ভয়ের পরিবেশ, বাসস্ট্যান্ড সুনসান, ফাঁকা। তিনি হেঁটে গন্তব্যের দিকে এগোতে শুরু করেন। জনবিচ্ছিন্ন বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে থাকতেন, সেই গণভবনের সামনের মূল সড়ক কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রেখেছিল সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা। সেটার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এগোতে লাগলেন তিনি।
আসাদগেট পেরিয়ে আড়ংয়ের উল্টো দিকের মোড়ে প্রচুর সেনা সদস্য এবং অন্যান্য বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। সামরিক যানও ছিল সেখানে। আড়ংয়ের নিচে শত শত প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে বসে ছিল বিগত সরকারের সমর্থকগোষ্ঠীর লোকজন। সবার হাতে লাঠিসোঁটা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সামনেই তারা বুক চিতিয়ে বসেছিল। তাদের সামনে দিয়েই এগোতে লাগলেন সেই ব্যক্তি। ধানমন্ডি রাপা প্লাজার সামনে বেশ শোরগোল দেখে তিনি এগিয়ে যান। সেখানে সাইকেলে বসা এক কিশোরকে লাঠিসোঁটা হাতে ঘিরে রেখেছিল রাস্তা পাহারা দেওয়া বিগত সরকারের সমর্থক যুবকরা। কিশোরটির গলায় কোনো এক ফুড ডেলিভারি কোম্পানির আইডি কার্ড ছিল।
স্থানীয় জনগণের সহায়তায় কিশোরটি কোনোমতে হায়েনাদের হিংস্র থাবা থেকে বের হতে সক্ষম হয়। তার চোখেমুখে ছিল বিব্রত ভাব, কিছুটা ভয় এবং রাগ। সাইকেল চালিয়ে চলে গেল কিশোরটি। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সেই ব্যক্তি হেঁটে পান্থপথ মোড়েও একই অবস্থা দেখলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মোড় ও এর আশপাশে বিগত সরকারের সমর্থক সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা হাতে পাহারা দিচ্ছিল। প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে কেউ খবরের কাগজ পড়ছে, কেউবা আরামে খানাপিনায় ব্যস্ত। তাদের পাশ কাটিয়ে পান্থপথ ধরে সার্ক ফোয়ারার দিকে এগোতে লাগলেন তিনি। সার্ক ফোয়ারার মোড়ে আওয়ামীপন্থি কয়েকজন সাংবাদিক ব্যানার হাতে বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিল।
রিপোর্টারের নাম 

























