বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জনসাধারণকে এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সাথে পরীক্ষায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা এ পরামর্শ দিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু, বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় করার ব্যবস্থা করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৫৯ জন মারা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী ১০ হাজার ৮২৭ জন, যাদের মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনামূলক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন, যা ২০২৫ সালে একই সময়ে হওয়া ২৩ হাজার ৪১০ জনের চেয়ে কম। এ বছরে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে একই সময়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ, বর্তমান বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দুটোই তুলনামূলকভাবে কম।
ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা ধ্বংস করা। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তাই আমাদের সকলের উচিত বাড়ির আঙিনা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি জমে থাকা রোধ করা। এডিস মশা ধ্বংসে সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 






















