লালমনিরহাটে মাদক ও জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ার জের ধরে এক কলেজ শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার (৯ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার মোগলহাট টেম্পু স্ট্যান্ড সড়কে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
আরিফুল ইসলাম, যিনি লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর এবং ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা, তিনি মোগলহাট এলাকার বাসিন্দা। গত ১ আগস্ট কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছিলেন।
শিক্ষক আরিফুল ইসলাম এলাকায় জুয়া বন্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জুয়া খেলা থেকে বিরত থাকতে ওই ব্যক্তিদের নিষেধ করতেন এবং জুয়া বন্ধ না করলে পুলিশকে জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এর জের ধরেই তার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
আহতের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, হামলার নয় দিন অতিবাহিত হলেও তার ছেলে এখনো জ্ঞান ফেরেনি। প্রথমে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা এই ঘটনাকে আরিফুল ইসলামের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা বলে অভিহিত করেন এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে, তারা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সঠিক ধারায় মামলা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান। এদিকে, এ ঘটনায় ছয়জন অনলাইন জুয়া ব্যবসায়ীসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে, মামলা দায়েরের সাত দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 






















