বাগেরহাটের চিতলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় জনগণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রনজিৎ বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ঝাড়ু হাতে অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভের কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সমাজসেবা, শিক্ষা, মৎস্যসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পরিষদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভাণ্ডার সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ডিজিটাল জরিপ কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও, সেই শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরং বৈষম্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে দুই পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ইউএনও খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রনজিৎ বিশ্বাসকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
এ বিক্ষোভে বাগেরহাট-১ আসনের বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মন্ডলসহ দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি চিতলমারীতে দুর্নীতিমুক্ত ও মাদকমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শরিফুল হাসান অপু, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, মো. শিপন মুন্সি, জাকারিয়া মিলন, নিয়ামত আলী খান ও মো. জবরুল শেখসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভের একদিন আগেই, শনিবার ইউএনও খাদিজা আক্তার তার ফেসবুক পেজে এক চিঠির মাধ্যমে জানান যে, ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডারের বিষয়ে কিছু অভিযোগ তিনি অবগত আছেন এবং সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 




















