মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চুক্তি হলেও শিগগিরই খুলছে না: ইরান

বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওমান। তবে কোনো চুক্তির ফলেই হরমুজ প্রণালি শিগগির খুলে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরান ও ওমান, উভয় দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে যে, জলপথটি নিয়ে একটি চুক্তির ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। আলোচনাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যদিও কবে নাগাদ চুক্তিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। আবার চুক্তি হলেই যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি আরো বেশ কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেছেন আরাগচি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলার বিরুদ্ধে তেহরানকে সতর্ক করেছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে এটি ঘিরেও দুপক্ষের মধ্যকার চলমান আলোচনা যে ভেস্তে যেতে পারে, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়ে থাকে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরানি বাহিনী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে জলপথটি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ওমান। তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরো বেশ কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি সই হয়েছিল, ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সেটি লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তেহরান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: দেশ স্বাধীন করেছে বীরেরা, তাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সরকার – গণপূর্তমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চুক্তি হলেও শিগগিরই খুলছে না: ইরান

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওমান। তবে কোনো চুক্তির ফলেই হরমুজ প্রণালি শিগগির খুলে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরান ও ওমান, উভয় দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে যে, জলপথটি নিয়ে একটি চুক্তির ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। আলোচনাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যদিও কবে নাগাদ চুক্তিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। আবার চুক্তি হলেই যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি আরো বেশ কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেছেন আরাগচি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলার বিরুদ্ধে তেহরানকে সতর্ক করেছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে এটি ঘিরেও দুপক্ষের মধ্যকার চলমান আলোচনা যে ভেস্তে যেতে পারে, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়ে থাকে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরানি বাহিনী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে জলপথটি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ওমান। তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরো বেশ কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি সই হয়েছিল, ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সেটি লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তেহরান।