ভারতে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা তরুণদের আন্দোলন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও আন্দোলনটি এখন স্থগিত রয়েছে, তবে এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
অনলাইনভিত্তিক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে এই আন্দোলন রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে শুরু হয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব এবং মোদি সরকারের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দোলনের মুখে গত ২৫ জুলাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা দীর্ঘ ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বিরল পশ্চাদপসরণ। এরপর থেকেই সরকার তরুণদের মন জয়ের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাও প্রত্যাহার করেছে পুলিশ।
এই আন্দোলন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শক্তিও সামনে এনেছে। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদিও প্রথমবারের মতো তরুণদের পছন্দের প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হয়েছেন এবং একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
বিক্ষোভের সময় কর্তৃপক্ষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। অনেক নারীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তারা অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি ও অশালীন বার্তা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্রের আশেপাশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, যা তরুণদের নতুন উপায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে বাধ্য করে। গত বছর বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের দিক থেকে ভারত দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।
রিপোর্টারের নাম 



















