মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ-মিয়ানমার গ্যাস পাইপলাইন: আরাকান আর্মির সবুজ সংকেত কি জরুরি?

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার। তবে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন অনেকটাই নির্ভর করছে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সম্মতির ওপর। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের অফশোর শ্বে গ্যাস প্রকল্প থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে হলে যে রুট ব্যবহার করতে হবে, তার সিংহভাগই এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ২০২৪ সাল থেকেই রাখাইন ও চিন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই গ্যাস আমদানির পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে যেহেতু আন্তঃসীমান্ত ট্রানজিট করিডোরগুলো এখন কার্যকরভাবে আরাকান আর্মির প্রশাসনের অধীনে, তাই তাদের সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে। স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক সুবিধা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগ তৈরি হলে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রকল্পটিতে সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যুবদল নেতার প্রশ্ন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার গ্যাস পাইপলাইন: আরাকান আর্মির সবুজ সংকেত কি জরুরি?

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার। তবে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন অনেকটাই নির্ভর করছে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সম্মতির ওপর। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের অফশোর শ্বে গ্যাস প্রকল্প থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে হলে যে রুট ব্যবহার করতে হবে, তার সিংহভাগই এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ২০২৪ সাল থেকেই রাখাইন ও চিন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই গ্যাস আমদানির পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে যেহেতু আন্তঃসীমান্ত ট্রানজিট করিডোরগুলো এখন কার্যকরভাবে আরাকান আর্মির প্রশাসনের অধীনে, তাই তাদের সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে। স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক সুবিধা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগ তৈরি হলে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রকল্পটিতে সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।