মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

আত্মীয়তার তিন স্তর ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের মর্যাদা: কী বলছে ইসলাম?

ইসলামি শরিয়তে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয়দের হক আদায় এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক আলোচনায় বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ আত্মীয়তার শ্রেণিবিন্যাস ও তাদের অধিকার নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মীয়দের মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন বাবার দিকের নিকটাত্মীয়রা, যাদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি এবং যারা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদের ভাগ পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে বাবা, দাদা, চাচা, ফুফু এবং নিজের ভাই-বোন ও সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন মায়ের দিকের রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়রা, যেমন—মামা, খালা, নানা ও নানি। যদিও তারা সরাসরি সম্পদের অংশীদার হন না, কিন্তু রক্তের সম্পর্কের কারণে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য।

তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তৈরি হওয়া আত্মীয়রা, অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, যদিও তাদের সঙ্গে সরাসরি রক্তের সম্পর্ক থাকে না, তবুও বৈবাহিক বন্ধনের কারণে তারা বিশেষ সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদার অধিকারী। মুমিনের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এই সকল স্তরের আত্মীয়দের খোঁজ-খবর রাখা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত ও অভিশপ্ত কাজ হিসেবে বিবেচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে মন্ত্রীর পথসভায় যুবকের কাছে পাওয়া পিস্তলটি আসলে খেলনা: পুলিশ

আত্মীয়তার তিন স্তর ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের মর্যাদা: কী বলছে ইসলাম?

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামি শরিয়তে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয়দের হক আদায় এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক আলোচনায় বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ আত্মীয়তার শ্রেণিবিন্যাস ও তাদের অধিকার নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মীয়দের মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন বাবার দিকের নিকটাত্মীয়রা, যাদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি এবং যারা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদের ভাগ পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে বাবা, দাদা, চাচা, ফুফু এবং নিজের ভাই-বোন ও সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন মায়ের দিকের রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়রা, যেমন—মামা, খালা, নানা ও নানি। যদিও তারা সরাসরি সম্পদের অংশীদার হন না, কিন্তু রক্তের সম্পর্কের কারণে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য।

তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তৈরি হওয়া আত্মীয়রা, অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, যদিও তাদের সঙ্গে সরাসরি রক্তের সম্পর্ক থাকে না, তবুও বৈবাহিক বন্ধনের কারণে তারা বিশেষ সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদার অধিকারী। মুমিনের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এই সকল স্তরের আত্মীয়দের খোঁজ-খবর রাখা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত ও অভিশপ্ত কাজ হিসেবে বিবেচিত।