নেত্রকোনায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার সকালে রিপন মিয়াকে নেত্রকোনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১৪-এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেপ্তারকৃত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিপন ওই কিশোরীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি কথা আছে বলে মগড়া নদীর পাড়ে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই রিপন আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর গত সোমবার রাতে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিসে রিপন নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান। বৈঠকে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে বসতবাড়ি ভুক্তভোগীর নামে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তাকে এলাকাছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে রিপনকে ভুল স্বীকার করে স্থানীয় মাতব্বরের পা ধরে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই তিনি গা ঢাকা দেন। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ জানান, ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আসামিকে র্যাব থানায় হস্তান্তর করেছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
রিপোর্টারের নাম 

























