মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ী এই চুক্তিকে কেবল একটি ‘কাগুজে চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এ ধরনের সমঝোতা সৌদি আরবকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজায়ী উল্লেখ করেন, সৌদি আরব দীর্ঘ সময় ধরে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেও কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পায়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে এই চুক্তিও তাদের সুরক্ষায় বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখবে না। তিনি পরামর্শ দেন, সৌদি আরব যদি তাদের বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবে নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশের কাছে ধরণা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সম্প্রতি ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। মূলত লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় জোট গঠিত হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুসংহত করা।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই রিয়াদ এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে নতুন এই প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: ঢাবির বিজয় একাত্তর হল থেকে শিবিরের সাবেক কর্মী বহিষ্কৃত

‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না: ইরান

আপডেট সময় : ০১:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ী এই চুক্তিকে কেবল একটি ‘কাগুজে চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এ ধরনের সমঝোতা সৌদি আরবকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজায়ী উল্লেখ করেন, সৌদি আরব দীর্ঘ সময় ধরে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেও কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পায়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে এই চুক্তিও তাদের সুরক্ষায় বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখবে না। তিনি পরামর্শ দেন, সৌদি আরব যদি তাদের বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবে নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশের কাছে ধরণা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সম্প্রতি ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। মূলত লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় জোট গঠিত হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুসংহত করা।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই রিয়াদ এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে নতুন এই প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।