মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

আরবের উট এখন অস্ট্রেলিয়ার সম্পদে: রপ্তানি ও নতুন বাণিজ্যের সম্ভাবনা

একসময় আরব মরুভূমির বাসিন্দা উট এখন অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উনিশ শতকে ব্রিটিশ উপনিবেশকারীদের আনা এই উটগুলো পরবর্তীতে বন্য হয়ে গেলেও বর্তমানে তা দেশটির জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বুনো উটের দৌড় প্রতিযোগিতা, বিকল্প দুধ উৎপাদন এবং এমনকি বিয়ার তৈরির মতো কাজেও এদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে উটের সংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ১০ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। যদিও বন্য উটগুলো পরিবেশের কিছু সমস্যা তৈরি করে, যেমন গবাদিপশুর সঙ্গে খাবারের প্রতিযোগিতা, বেড়া নষ্ট করা এবং পানির উৎস নোংরা করা, তবে প্রশিক্ষিত ও গৃহপালিত উটগুলো দেশটির জন্য একটি সীমিত রপ্তানি বাজার তৈরি করেছে।

দেশের খামারিরা উটের দুধ বিক্রি করার পাশাপাশি জীবিত উটও রপ্তানি করছেন। ২০২৬ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে ৬৮টি উট রপ্তানি করা হয়েছে। বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার উটের মাংস রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ ডলারের বেশি।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রোব শহরের হাম্পালিশিয়াস খামারের মালিক ওয়ারউইক হিল উটের দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতার ওপর জোর দেন, বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জন্য। তিনি প্রতি লিটার দুধ ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করেন এবং উটের দুধকে প্রচলিত দুধের চেয়ে উন্নত ও গুণগত মানসম্পন্ন বলে দাবি করেন।

হিলের মতে, উটের দুধের বাজারের সম্ভাবনা ব্যাপক হলেও এর উচ্চ মূল্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। শ্রমের মজুরি এবং উটের তুলনামূলক কম দুধ উৎপাদনের কারণে দাম বেশি পড়ে যাচ্ছে। তবে, তিনি আশাবাদী যে উটের দুধের বিশেষ গুণাবলী এর বাজারকে ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: ঢাবির বিজয় একাত্তর হল থেকে শিবিরের সাবেক কর্মী বহিষ্কৃত

আরবের উট এখন অস্ট্রেলিয়ার সম্পদে: রপ্তানি ও নতুন বাণিজ্যের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

একসময় আরব মরুভূমির বাসিন্দা উট এখন অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উনিশ শতকে ব্রিটিশ উপনিবেশকারীদের আনা এই উটগুলো পরবর্তীতে বন্য হয়ে গেলেও বর্তমানে তা দেশটির জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বুনো উটের দৌড় প্রতিযোগিতা, বিকল্প দুধ উৎপাদন এবং এমনকি বিয়ার তৈরির মতো কাজেও এদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে উটের সংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ১০ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। যদিও বন্য উটগুলো পরিবেশের কিছু সমস্যা তৈরি করে, যেমন গবাদিপশুর সঙ্গে খাবারের প্রতিযোগিতা, বেড়া নষ্ট করা এবং পানির উৎস নোংরা করা, তবে প্রশিক্ষিত ও গৃহপালিত উটগুলো দেশটির জন্য একটি সীমিত রপ্তানি বাজার তৈরি করেছে।

দেশের খামারিরা উটের দুধ বিক্রি করার পাশাপাশি জীবিত উটও রপ্তানি করছেন। ২০২৬ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে ৬৮টি উট রপ্তানি করা হয়েছে। বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার উটের মাংস রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ ডলারের বেশি।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রোব শহরের হাম্পালিশিয়াস খামারের মালিক ওয়ারউইক হিল উটের দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতার ওপর জোর দেন, বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জন্য। তিনি প্রতি লিটার দুধ ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করেন এবং উটের দুধকে প্রচলিত দুধের চেয়ে উন্নত ও গুণগত মানসম্পন্ন বলে দাবি করেন।

হিলের মতে, উটের দুধের বাজারের সম্ভাবনা ব্যাপক হলেও এর উচ্চ মূল্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। শ্রমের মজুরি এবং উটের তুলনামূলক কম দুধ উৎপাদনের কারণে দাম বেশি পড়ে যাচ্ছে। তবে, তিনি আশাবাদী যে উটের দুধের বিশেষ গুণাবলী এর বাজারকে ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত করবে।