বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে আগামী রোববার পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের দিনই এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হবে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তি বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। তবে, পিপলস লিজিংকে ঘিরে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানে আদালতের আদেশ পাওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, এই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টিকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য নির্বাচন করা হয়, কারণ তাদের জবাব সন্তোষজনক ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাকি চারটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে তারা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও, নয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্যই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার দিকে যাবে।
রিপোর্টারের নাম 























