মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ কর্মকর্তার রহস্যজনক পদোন্নতি: বিপিসিতে তোলপাড়

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় সুপারিশে নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় কর্মকর্তা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে পদোন্নতির ধারা অব্যাহত রেখেছেন। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতনের পরও এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি অব্যাহত থাকায় বিপিসি ও এর অংগ প্রতিষ্ঠানগুলোতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ না হতেই ওই ছয় কর্মকর্তাকে উচ্চগ্রেডের বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার অপচয়। এদের মধ্যে কারো কারো বিরুদ্ধে বয়সসীমা অতিক্রম করে দলীয় সুপারিশে নিয়োগ পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

বিপিসির নিজস্ব প্রবিধান এবং জাতীয় বেতন নীতির বিভিন্ন ধারা অমান্য করে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন উপমহাব্যবস্থাপক—এস এম জুবায়ের হাসান, সিরাজাম মুনীরা ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন এবং তিনজন ব্যবস্থাপক—মিজানুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আমেনা ফেরদৌসী ও ইসতিয়াক হোসেন। নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিটি পদোন্নতিতে পদে পদে নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি বিভিন্ন নথিপত্রে প্রমাণিত হয়েছে। তবে বিপিসির দাবি, সুপিরিয়র সিলেকশন কমিটির সিদ্ধান্তেই তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং কাউকে বাড়তি কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি।

বিপিসি সূত্র জানায়, চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৯ অনুযায়ী, ব্যবস্থাপক পদে ৫০ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু বিপিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পদে কোনো সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়নি; বরং সকল পদ শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল সিনিয়র সিলেকশন কমিটির সুপারিশে পাঁচজন উপব্যবস্থাপককে একই বছরের ৬ মে সরাসরি ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা প্রবিধানমালার সরাসরি লঙ্ঘন। এদের মধ্যে ছিলেন এস এম জুবায়ের হাসান, সিরাজাম মুনীরা, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, মো. মিজানুর রহমান ও আমেনা ফেরদৌসী। পরে ২০২৫ সালের ২ জুলাই এস এম জুবায়ের হাসান, সিরাজাম মুনীরা ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনকে উপমহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরের ১০ জুলাই ইসতিয়াক হোসেনকে ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৯ অনুযায়ী, উপব্যবস্থাপক পদে পূর্ণ গ্রেড পেতে ন্যূনতম পাঁচ বছর, ব্যবস্থাপক পদে ১০ বছর এবং উপমহাব্যবস্থাপক পদে ১২ বছর চাকরিকাল পূর্ণ হতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তারা এই ন্যূনতম চাকরিকাল পূর্ণ করার আগেই পদোন্নতি পেয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: ঢাবির বিজয় একাত্তর হল থেকে শিবিরের সাবেক কর্মী বহিষ্কৃত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ কর্মকর্তার রহস্যজনক পদোন্নতি: বিপিসিতে তোলপাড়

আপডেট সময় : ১২:৩৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় সুপারিশে নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় কর্মকর্তা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে পদোন্নতির ধারা অব্যাহত রেখেছেন। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতনের পরও এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি অব্যাহত থাকায় বিপিসি ও এর অংগ প্রতিষ্ঠানগুলোতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ না হতেই ওই ছয় কর্মকর্তাকে উচ্চগ্রেডের বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার অপচয়। এদের মধ্যে কারো কারো বিরুদ্ধে বয়সসীমা অতিক্রম করে দলীয় সুপারিশে নিয়োগ পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

বিপিসির নিজস্ব প্রবিধান এবং জাতীয় বেতন নীতির বিভিন্ন ধারা অমান্য করে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন উপমহাব্যবস্থাপক—এস এম জুবায়ের হাসান, সিরাজাম মুনীরা ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন এবং তিনজন ব্যবস্থাপক—মিজানুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আমেনা ফেরদৌসী ও ইসতিয়াক হোসেন। নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিটি পদোন্নতিতে পদে পদে নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি বিভিন্ন নথিপত্রে প্রমাণিত হয়েছে। তবে বিপিসির দাবি, সুপিরিয়র সিলেকশন কমিটির সিদ্ধান্তেই তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং কাউকে বাড়তি কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি।

বিপিসি সূত্র জানায়, চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৯ অনুযায়ী, ব্যবস্থাপক পদে ৫০ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু বিপিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পদে কোনো সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়নি; বরং সকল পদ শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল সিনিয়র সিলেকশন কমিটির সুপারিশে পাঁচজন উপব্যবস্থাপককে একই বছরের ৬ মে সরাসরি ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা প্রবিধানমালার সরাসরি লঙ্ঘন। এদের মধ্যে ছিলেন এস এম জুবায়ের হাসান, সিরাজাম মুনীরা, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, মো. মিজানুর রহমান ও আমেনা ফেরদৌসী। পরে ২০২৫ সালের ২ জুলাই এস এম জুবায়ের হাসান, সিরাজাম মুনীরা ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনকে উপমহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরের ১০ জুলাই ইসতিয়াক হোসেনকে ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৯ অনুযায়ী, উপব্যবস্থাপক পদে পূর্ণ গ্রেড পেতে ন্যূনতম পাঁচ বছর, ব্যবস্থাপক পদে ১০ বছর এবং উপমহাব্যবস্থাপক পদে ১২ বছর চাকরিকাল পূর্ণ হতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তারা এই ন্যূনতম চাকরিকাল পূর্ণ করার আগেই পদোন্নতি পেয়েছেন।