কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান হত্যা মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. মিজানুর রহমান হাজারী (৬৫)। অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অপর আসামি মেহেদী হাসানের (২৯) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত) এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহান (২৫) এর সঙ্গে মিজানুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর সোহানের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার জানান, বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন। অপরদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























