২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তিতে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা আন্দোলনে রাজধানীর পাঁচটি এলাকা ছিল ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মূল কেন্দ্র। যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও রামপুরা এলাকায় সর্বস্তরের জনতা ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে অভিভাবক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যোগ দেন। এমনকি গৃহিণীরাও আন্দোলনকারীদের খাবার ও পানি দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন।
বিগত সরকারের পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির নির্বিচার গুলি, রাতভর অভিযান এবং সড়ক নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই এলাকাগুলো ছিল ছাত্র-জনতার দখলে। আন্দোলনকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছিল এই হটস্পটগুলোতে।
ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ এতটাই তীব্র ছিল যে, ওয়ারী জোনের তৎকালীন ডিসি ইকবাল হোসেন গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, “স্যার গুলি করি একটা, মরে একটা, বাকিরা যায় না; ভয়ের কারণ এটা।” সেই কথোপকথনের ভিডিও সারা দেশে ভাইরাল হয়ে ক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়ে দিয়েছিল।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রকাশিত জুলাই শহীদের তালিকায় ৮৪৩ শহীদের মধ্যে এই পাঁচটি স্পটেই শহীদ হয়েছিলেন ৩২০ জন। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে ১১৫ জন, মোহাম্মদপুরে ৪২ জন, উত্তরায় ৬৯ জন, রামপুরায় ৩২ জন ও মিরপুরে ৬২ জন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর মুহুর্মুহু গুলিতেও সড়ক থেকে সরেননি আন্দোলনকারীরা। বিপ্লবী ছাত্র-জনতাকে দমাতে পুলিশের পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা হায়েনার মতো হামলে পড়েছিল। তাদের অনেক স্থানে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়েও গুলি করতে দেখা যায়। এছাড়াও মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে র্যাবের হেলিকপ্টার থেকেও ব্যাপক গুলি চালানো হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকায় মোট ৭৮৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘হটস্পট’ বলে পরিচিত মোহাম্মদপুরে ৩৫টি, যাত্রাবাড়ী থানায় ১৯টি, রামপুরায় ২৫টি ও মিরপুরে ২৭টি মামলার রেকর্ড হয়। এসব মামলার মধ্যে হত্যা মামলা ছিল ৪৭৯টি এবং অন্যান্য মামলা ৩১০টি।
এসব মামলার মধ্যে ৫৯৭টির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৩২০টি এবং অন্যান্য মামলা ২৭৭টি। এছাড়াও ঢাকার ১৫৫টি মামলা তদন্ত করছে পিবিআই ও সিআইডি।
৭৮৯ মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি হত্যা মামলা এবং চারটি অন্যান্য মামলা। আর ২৭টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, ঢাকার হটস্পটের একাধিক মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















