মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: হেলিকপ্টারের গুলিতে মেধাবী আহসানের মৃত্যু, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

২০২৪ সালের ২১ জুলাই ঢাকাজুড়ে চলা গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘাত ও আতঙ্কের মধ্যে হেলিকপ্টারের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আহসান কবীর শরীফ। তার পরিবার এখনও সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি এবং ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধে আছে।

ডেমরা থানার দক্ষিণ সানারপাড় এলাকার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী শরীফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেদিন আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার সময় সাইনবোর্ড এলাকায় বেলা ৩টার দিকে আকাশে থাকা একটি হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে তার বুক ভেদ হয়ে যায়, ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

আহসানের বাবা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হুমায়ুন কবির অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। কোনো যানবাহন না পেয়ে এক সবজি বিক্রেতার ভ্যানে করে নিজেই ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, আহসানের জীবন আগেই নিভে গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, আহসানকে হাসপাতালে নেওয়ার পর বিগত আওয়ামী লীগপন্থি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত দাফনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং ময়নাতদন্ত না করার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। নিরাপত্তা শঙ্কায় সেদিনই মাগরিবের নামাজের পর ডেমরার শুকুরসী কবরস্থানে শরীফকে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে বাবা হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে শরীফকে হত্যা করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত না করার জন্য পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

আহসান কবীর শরীফের পরিবারে রয়েছেন বাবা, অসুস্থ মা, এক প্রবাসী বড় ভাই ও এক বোন। পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের নানা দায়িত্বে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। মা খালেদা কবির বলেন, ‘আমার হাঁটুর অপারেশন হয়েছে। ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। শরীফ অফিস থেকে এসে আমার পায়ে মালিশ করত।’ এই মেধাবী সন্তানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর শোকে আচ্ছন্ন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: হেলিকপ্টারের গুলিতে মেধাবী আহসানের মৃত্যু, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

আপডেট সময় : ০২:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ২১ জুলাই ঢাকাজুড়ে চলা গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘাত ও আতঙ্কের মধ্যে হেলিকপ্টারের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আহসান কবীর শরীফ। তার পরিবার এখনও সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি এবং ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধে আছে।

ডেমরা থানার দক্ষিণ সানারপাড় এলাকার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী শরীফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেদিন আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার সময় সাইনবোর্ড এলাকায় বেলা ৩টার দিকে আকাশে থাকা একটি হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে তার বুক ভেদ হয়ে যায়, ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

আহসানের বাবা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হুমায়ুন কবির অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। কোনো যানবাহন না পেয়ে এক সবজি বিক্রেতার ভ্যানে করে নিজেই ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, আহসানের জীবন আগেই নিভে গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, আহসানকে হাসপাতালে নেওয়ার পর বিগত আওয়ামী লীগপন্থি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত দাফনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং ময়নাতদন্ত না করার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। নিরাপত্তা শঙ্কায় সেদিনই মাগরিবের নামাজের পর ডেমরার শুকুরসী কবরস্থানে শরীফকে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে বাবা হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে শরীফকে হত্যা করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত না করার জন্য পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

আহসান কবীর শরীফের পরিবারে রয়েছেন বাবা, অসুস্থ মা, এক প্রবাসী বড় ভাই ও এক বোন। পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের নানা দায়িত্বে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। মা খালেদা কবির বলেন, ‘আমার হাঁটুর অপারেশন হয়েছে। ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। শরীফ অফিস থেকে এসে আমার পায়ে মালিশ করত।’ এই মেধাবী সন্তানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর শোকে আচ্ছন্ন।