মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরে ইমামের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: স্থানীয়দের দাবি ‘ফাঁসানোর চেষ্টা’

শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদের ইমাম এনামুল হক (৪৬)-কে এক মক্তব শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শিশুদের শাসনের ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইমামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় বাইশরশি জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক প্রায় এক দশক ধরে বাইশরশি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি রাজগঞ্জ ইসলামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাই মক্তবে পড়তে গেলে পাঠদানের একপর্যায়ে ছোট ভাইকে পানি আনতে বাইরে পাঠিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ইমামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, সন্তানদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অভিযুক্তের কাছে ব্যাখ্যা চান এবং পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, অভিযুক্তের ছেলে এহসানুল হক কাউসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বাবা একজন সৎ ও সম্মানিত ব্যক্তি। শিশুটি পড়া না পারায় তাকে সামান্য শাসন করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় এনামুল হকও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, একটি মহল তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে এবং তিনি কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।

স্থানীয় মুসল্লি গফুর সরদার ও শামসুল হক মাদবর জানান, দুই শিশু দুষ্টুমি করায় তাদের শাসন করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা এনামুল হকের দীর্ঘ ১০ বছরের কর্মজীবনে এমন কোনো অভিযোগ শোনেননি জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানিয়েছেন, এক শিক্ষার্থীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইমামকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

শরীয়তপুরে ইমামের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: স্থানীয়দের দাবি ‘ফাঁসানোর চেষ্টা’

আপডেট সময় : ০২:২৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদের ইমাম এনামুল হক (৪৬)-কে এক মক্তব শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শিশুদের শাসনের ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইমামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় বাইশরশি জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক প্রায় এক দশক ধরে বাইশরশি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি রাজগঞ্জ ইসলামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাই মক্তবে পড়তে গেলে পাঠদানের একপর্যায়ে ছোট ভাইকে পানি আনতে বাইরে পাঠিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ইমামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, সন্তানদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অভিযুক্তের কাছে ব্যাখ্যা চান এবং পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, অভিযুক্তের ছেলে এহসানুল হক কাউসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বাবা একজন সৎ ও সম্মানিত ব্যক্তি। শিশুটি পড়া না পারায় তাকে সামান্য শাসন করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় এনামুল হকও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, একটি মহল তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে এবং তিনি কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।

স্থানীয় মুসল্লি গফুর সরদার ও শামসুল হক মাদবর জানান, দুই শিশু দুষ্টুমি করায় তাদের শাসন করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা এনামুল হকের দীর্ঘ ১০ বছরের কর্মজীবনে এমন কোনো অভিযোগ শোনেননি জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানিয়েছেন, এক শিক্ষার্থীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইমামকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।