মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি

“রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোর পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন, সেখানে কমান্ডো কায়দায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা পরপর দুটি রকেট ছোড়ে এবং কয়েকটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। দুটি রকেটই নিচতলার সেই কক্ষে আঘাত হানে, যার ঠিক ওপরের কক্ষে জিয়াউর রহমান অবস্থান করছিলেন। রকেট হামলার পর শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। হামলাকারীদের কয়েকজন দ্রুত মূল সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে যায়, আর বাকিরা ভবনের পূর্বপাশের পেছনের সিঁড়ি ব্যবহার করে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার কক্ষের পূর্বপাশের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এসে বলেন, ‘তোমরা কী চাও?’ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা স্টেন মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ করে তার শরীর ঝাঁজরা করে দেয় এবং রাষ্ট্রপতি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। যে বীর যোদ্ধা তার মানুষ ও দেশকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তার সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়।”

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী সেনাদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত রিপোর্টে এই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টটি এত দিন আলোর মুখ দেখেনি।

তদন্ত রিপোর্টটিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুলিবিদ্ধ মরদেহের ময়নাতদন্তে তার শরীরে পৃথক ২০টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপতির মুখে বেশ কয়েকটি গুলি লেগেছিল। তার নিচের চোয়ালের হাড় টুকরো টুকরো এবং ঘাড়ের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। খুব কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির কারণে এমনটি হয়েছিল। তার বুক ও পেটে প্রায় ১০টি গুলির ক্ষত, ডান হাতে দুটি, নাভির নিচে একটি এবং দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ক্ষত ছিল।’

কমিশন প্রমাণ পায় সেদিনের হামলায় বিদ্রোহীদের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ কর্মকর্তা অংশ নেয়। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই শিথিল ছিল যে, সেখানে ব্যাপক অস্ত্রসজ্জা থাকা সত্ত্বেও হত্যাকারীরা প্রায় বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সেদিন কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়ে তোলা যায়নি; তাদের জন্য পুরো ঘটনাটিই ছিল জুলিয়াস সিজারের বিখ্যাত উক্তি ‘ভিনি, ভিডি, ভিচি’-এর মতো, যার অর্থ এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী, যিনি হত্যাকাণ্ডের…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পের ওপর মার্কিন জনআস্থার বড় ধস

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি

আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

“রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোর পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন, সেখানে কমান্ডো কায়দায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা পরপর দুটি রকেট ছোড়ে এবং কয়েকটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। দুটি রকেটই নিচতলার সেই কক্ষে আঘাত হানে, যার ঠিক ওপরের কক্ষে জিয়াউর রহমান অবস্থান করছিলেন। রকেট হামলার পর শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। হামলাকারীদের কয়েকজন দ্রুত মূল সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে যায়, আর বাকিরা ভবনের পূর্বপাশের পেছনের সিঁড়ি ব্যবহার করে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার কক্ষের পূর্বপাশের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এসে বলেন, ‘তোমরা কী চাও?’ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা স্টেন মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ করে তার শরীর ঝাঁজরা করে দেয় এবং রাষ্ট্রপতি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। যে বীর যোদ্ধা তার মানুষ ও দেশকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তার সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়।”

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী সেনাদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত রিপোর্টে এই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টটি এত দিন আলোর মুখ দেখেনি।

তদন্ত রিপোর্টটিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুলিবিদ্ধ মরদেহের ময়নাতদন্তে তার শরীরে পৃথক ২০টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপতির মুখে বেশ কয়েকটি গুলি লেগেছিল। তার নিচের চোয়ালের হাড় টুকরো টুকরো এবং ঘাড়ের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। খুব কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির কারণে এমনটি হয়েছিল। তার বুক ও পেটে প্রায় ১০টি গুলির ক্ষত, ডান হাতে দুটি, নাভির নিচে একটি এবং দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ক্ষত ছিল।’

কমিশন প্রমাণ পায় সেদিনের হামলায় বিদ্রোহীদের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ কর্মকর্তা অংশ নেয়। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই শিথিল ছিল যে, সেখানে ব্যাপক অস্ত্রসজ্জা থাকা সত্ত্বেও হত্যাকারীরা প্রায় বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সেদিন কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়ে তোলা যায়নি; তাদের জন্য পুরো ঘটনাটিই ছিল জুলিয়াস সিজারের বিখ্যাত উক্তি ‘ভিনি, ভিডি, ভিচি’-এর মতো, যার অর্থ এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী, যিনি হত্যাকাণ্ডের…