মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের টার্গেট করে অপরাধচক্র গঠন: চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন

চট্টগ্রামে সক্রিয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে সদস্য সংগ্রহ ও গড়ে তোলার প্রক্রিয়া ছিল সুপরিকল্পিত। পুলিশের দাবি, সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-তরুণদের অল্প টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ছোটখাটো অপরাধে জড়ানো হতো। এরপর ধাপে ধাপে তাদের অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে অস্ত্র ব্যবহার শেখানো এবং চাঁদাবাজি, হামলা থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহার করা হতো।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাহিনীটি মূলত সমাজের প্রান্তিক, বেকার ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কিশোর-তরুণদের টার্গেট করত। তাদের অনেকেই ছিলেন ফুটপাতে বসবাসকারী, টোকাই, দিনমজুর বা স্কুলছুট। অর্থের লোভ, দ্রুত প্রভাবশালী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাদের দলে ভেড়ানো হতো।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সদস্যদের প্রথম দায়িত্ব ছিল অস্ত্রধারী সদস্যদের সঙ্গে যাওয়া, নজরদারি করা এবং চাঁদা আদায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন। কোনো ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ভবন বা প্রতিষ্ঠানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ, মোটরসাইকেলে গিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা ভাঙচুরের মতো কাজও তাদের দিয়ে করানো হতো। এসব কাজের জন্য একেকজনকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হতো।

কয়েকবার এ ধরনের কাজে অংশ নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে অপরাধী চক্রের নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে উঠত। এরপর খাওয়া-দাওয়া, থাকার ব্যবস্থা, মোটরসাইকেল ব্যবহার এবং নিয়মিত হাতখরচসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হতো। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, আনুগত্য নিশ্চিত হওয়ার পর সদস্যদের অস্ত্র ব্যবহার শেখানো হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুতা-মোজা থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত: রইলো কার্যকর টিপস

সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের টার্গেট করে অপরাধচক্র গঠন: চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন

আপডেট সময় : ১১:৪১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে সক্রিয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে সদস্য সংগ্রহ ও গড়ে তোলার প্রক্রিয়া ছিল সুপরিকল্পিত। পুলিশের দাবি, সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-তরুণদের অল্প টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ছোটখাটো অপরাধে জড়ানো হতো। এরপর ধাপে ধাপে তাদের অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে অস্ত্র ব্যবহার শেখানো এবং চাঁদাবাজি, হামলা থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহার করা হতো।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাহিনীটি মূলত সমাজের প্রান্তিক, বেকার ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কিশোর-তরুণদের টার্গেট করত। তাদের অনেকেই ছিলেন ফুটপাতে বসবাসকারী, টোকাই, দিনমজুর বা স্কুলছুট। অর্থের লোভ, দ্রুত প্রভাবশালী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাদের দলে ভেড়ানো হতো।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সদস্যদের প্রথম দায়িত্ব ছিল অস্ত্রধারী সদস্যদের সঙ্গে যাওয়া, নজরদারি করা এবং চাঁদা আদায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন। কোনো ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ভবন বা প্রতিষ্ঠানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ, মোটরসাইকেলে গিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা ভাঙচুরের মতো কাজও তাদের দিয়ে করানো হতো। এসব কাজের জন্য একেকজনকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হতো।

কয়েকবার এ ধরনের কাজে অংশ নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে অপরাধী চক্রের নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে উঠত। এরপর খাওয়া-দাওয়া, থাকার ব্যবস্থা, মোটরসাইকেল ব্যবহার এবং নিয়মিত হাতখরচসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হতো। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, আনুগত্য নিশ্চিত হওয়ার পর সদস্যদের অস্ত্র ব্যবহার শেখানো হতো।