ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে প্রায় সারাবছরই জুতা-মোজা পরার প্রয়োজন হয়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ—কোনো ঋতুতেই এর ব্যতিক্রম নেই। বিশেষ করে, কর্মজীবী নারী-পুরুষদের প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়, ফলে জুতা-মোজা অপরিহার্য। তবে বর্ষাকালে যারা জুতা পরে বাইরে বের হন, তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। কাদা ও বৃষ্টির পানিতে জুতা ময়লা হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধের সমস্যাও প্রকট হয়ে দেখা দেয়। তবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।
জুতা-মোজার দুর্গন্ধ এড়াতে প্রতিদিন একই জুতা না পরে পালা করে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে জুতাগুলো বাতাসে শুকিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়। মোজা পরার আগে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পাউডার ব্যবহার করলে ঘাম ও ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করা যায়, যা দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণত পা বেশি ঘামার প্রবণতা থাকলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত হয় এবং দুর্গন্ধ বাড়ে। তাই পা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।
বাড়ি ফেরার পর লবণ মেশানো কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখলে তা যেমন আরামদায়ক, তেমনই দুর্গন্ধ কমাতেও সহায়ক। এছাড়াও, পায়ের মৃত কোষগুলো স্ক্রাব করে সরিয়ে ফেললে দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করা উচিত। ত্বক সংবেদনশীল হলে একদিনের বেশি একই মোজা ব্যবহার না করাই ভালো।
দীর্ঘ সময় ধরে জুতা বা মোজা পরে থাকলে মাঝেমধ্যে সেগুলো খুলে পায়ের পাতায় বাতাস লাগানো যেতে পারে। এতে দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কমে। বাইরে থেকে ফিরে মোজা ভালোভাবে বাতাসে শুকিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সাবান-পানিতে ধোয়ার পরও মোজা ভালোভাবে শুকাতে হবে, অন্যথায় দুর্গন্ধ ফিরে আসতে পারে। জুতা বদ্ধ জায়গায় না রেখে আলো-বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখা উচিত।
অনেকক্ষণ জুতা পরে থাকতে হলে ফিতা আলগা করে বাঁধা যেতে পারে, যাতে সুযোগ পেলেই জুতা খুলে ফেলা যায়। সিনথেটিক মোজা পায়ের দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়, তাই এ ধরনের মোজা এড়িয়ে সুতির মোজা ব্যবহার করা ভালো। বর্তমানে বাজারে পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বিভিন্ন সুগন্ধি সামগ্রীও পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করা যেতে পারে। পায়ের প্রতি একটু যত্নবান হলেই এই সাধারণ সমস্যাটি সহজেই এড়ানো সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 

























