দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেলেও, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অবকাঠামোর অভাব এখনো প্রকট। প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ নতুন রোগী শনাক্ত হলেও, সময়মতো রোগ নির্ণয়, আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং সীমিত চিকিৎসার সুবিধার কারণে হাজার হাজার রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে অসংখ্য পরিবার চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। জটিল এই রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মধ্যবিত্তরা হচ্ছেন দরিদ্র এবং দরিদ্ররা হচ্ছেন নিঃস্ব। আবার, আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যয় হওয়ায় মাঝপথে থমকে যাচ্ছে অনেকের জীবন। ফলে অকালে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। যদিও বেসরকারি হাসপাতালে রোবোটিক সার্জারি, টার্গেটেড থেরাপিসহ আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যমান, তবে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে রোগীরা বিদেশমুখী হচ্ছেন।
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩ থেকে ১৫ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছেন এবং বছরে প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যান। দেশে ৩৮ ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত হলেও, পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস, খাদ্যনালি, মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সার এবং নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যাদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ক্যান্সার আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৭৫ বছর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি এবং রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে রোগ শেষ বা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছালে সম্পূর্ণ নিরাময় কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার অপ্রতুলতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং জনসচেতনতার স্বল্পতায় ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বাড়ছে। পাশাপাশি, তামাক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং বায়ুদূষণও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তাদের মতে, বেসরকারি হাসপাতালে ক্যান্সারের ভালো চিকিৎসা হলেও ব্যয় খুব বেশি, ফলে অধিকাংশ রোগীর পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ রোগীই আর্থিক সংকটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন। তাই রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ, আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 



















