মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়কে জয় করে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: এক ঐতিহাসিক অধ্যায়

চব্বিশের জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও (রাবি) প্রতিরোধের এক অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। এই ক্যাম্পাসে জুলাই মাস কেবল মিছিল বা সংঘর্ষের স্মৃতি বহন করে না, এটি ভয়কে জয় করার গল্প, হাজারো শিক্ষার্থীর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস, নারী শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ এবং ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনার এক অনবদ্য উপাখ্যান।

মাত্র পাঁচদিনের ঘটনাপ্রবাহ—১৬ জুলাই ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা, ১৭ জুলাই প্রশাসন ভবন ঘেরাও ও পুলিশের অভিযান, ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি, ১৯ জুলাই কারফিউর নীরবতা এবং ২০ জুলাই মেসে মেসে আন্দোলনের নতুন কৌশল নির্ধারণ—এই ঘটনাগুলো রাবি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আমূল বদলে দেয়। আন্দোলন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তৎকালীন সমন্বয়কদের ভাষ্যমতে, এই কয়েকটি দিনই পরবর্তী জাতীয় গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রাবি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি ১৬ জুলাই দুপুর থেকেই উত্তপ্ত হতে থাকে। আন্দোলনকারীরা আগে থেকেই জানতে পারেন যে ছাত্রলীগও একই সময়ে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আন্দোলনকারীরা তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্পাসে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে রাবি-সংলগ্ন বিনোদপুর থেকে প্রায় ২০০-২৫০ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো বাধা দেননি। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার জন্য অনেক শিক্ষার্থীর হাতে ছিল লাঠি, রড ও পাইপের মতো প্রতিরোধ সামগ্রী।

মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আবাসিক হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। প্যারিস রোডে এসে মিছিলটি ধীরে ধীরে আরও বড় হতে থাকে। ছাত্রীদের হলের সামনে পৌঁছালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী মিছিলে যোগ দেন। হাতে ঝাড়ু, লাঠি—যা পেয়েছেন তাই নিয়েই তারা প্রতিরোধে নেমে পড়েন। মিছিলটি বিজ্ঞান ভবন এলাকা পেরিয়ে হবিবুর রহমান হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ পিছু হটে মাদার বখ্শ হলের দিকে চলে যায়। এরই মধ্যে শাহ মখদুম, সৈয়দ আমীর আলী ও লতিফ হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হল থেকেও শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসেন। তারা তৎকালীন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল গ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুতা-মোজা থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত: রইলো কার্যকর টিপস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়কে জয় করে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: এক ঐতিহাসিক অধ্যায়

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

চব্বিশের জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও (রাবি) প্রতিরোধের এক অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। এই ক্যাম্পাসে জুলাই মাস কেবল মিছিল বা সংঘর্ষের স্মৃতি বহন করে না, এটি ভয়কে জয় করার গল্প, হাজারো শিক্ষার্থীর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস, নারী শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ এবং ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনার এক অনবদ্য উপাখ্যান।

মাত্র পাঁচদিনের ঘটনাপ্রবাহ—১৬ জুলাই ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা, ১৭ জুলাই প্রশাসন ভবন ঘেরাও ও পুলিশের অভিযান, ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি, ১৯ জুলাই কারফিউর নীরবতা এবং ২০ জুলাই মেসে মেসে আন্দোলনের নতুন কৌশল নির্ধারণ—এই ঘটনাগুলো রাবি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আমূল বদলে দেয়। আন্দোলন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তৎকালীন সমন্বয়কদের ভাষ্যমতে, এই কয়েকটি দিনই পরবর্তী জাতীয় গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রাবি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি ১৬ জুলাই দুপুর থেকেই উত্তপ্ত হতে থাকে। আন্দোলনকারীরা আগে থেকেই জানতে পারেন যে ছাত্রলীগও একই সময়ে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আন্দোলনকারীরা তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্পাসে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে রাবি-সংলগ্ন বিনোদপুর থেকে প্রায় ২০০-২৫০ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো বাধা দেননি। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার জন্য অনেক শিক্ষার্থীর হাতে ছিল লাঠি, রড ও পাইপের মতো প্রতিরোধ সামগ্রী।

মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আবাসিক হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। প্যারিস রোডে এসে মিছিলটি ধীরে ধীরে আরও বড় হতে থাকে। ছাত্রীদের হলের সামনে পৌঁছালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী মিছিলে যোগ দেন। হাতে ঝাড়ু, লাঠি—যা পেয়েছেন তাই নিয়েই তারা প্রতিরোধে নেমে পড়েন। মিছিলটি বিজ্ঞান ভবন এলাকা পেরিয়ে হবিবুর রহমান হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ পিছু হটে মাদার বখ্শ হলের দিকে চলে যায়। এরই মধ্যে শাহ মখদুম, সৈয়দ আমীর আলী ও লতিফ হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হল থেকেও শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসেন। তারা তৎকালীন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল গ…