সুনামগঞ্জের শাল্লা থানায় এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিরুদ্ধে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এএসআই গোলাম কিবরিয়া গত ১৪ জুলাই জামালগঞ্জ থানা থেকে শাল্লা থানায় বদলি হয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নারকিলা গ্রামের মালেক মিয়ার ছেলে তাজেল ইসলাম, যিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন, তাকে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেপ্তার করে এএসআই গোলাম কিবরিয়া, কনস্টেবল মান্না মিয়া এবং পুলিশের একটি দল। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাজেল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রোমান আহমেদ বলেন, ‘ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে যদি টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। এই ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
আসামি তাজেল ইসলাম নিজে স্বীকার করেছেন যে পুলিশ তাকে ধরেছিল এবং পরে ছেড়ে দিয়েছে। তবে পুলিশকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে এএসআই গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, ‘তাজেল নিজেই স্বীকার করেছে যে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ও সাজা রয়েছে। তবে ওয়ারেন্ট অফিসার শাহজাহান স্যার নিষেধ করায় তাকে থানায় আনা হয়নি।’ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো জবাব দেননি।
অভিযানে থাকা কনস্টেবল মান্না মিয়া বলেন, ‘এখন আমাদের বাঁচার পথ নেই, একটা সমাধান দেন।’
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, ‘ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হবে।’
রিপোর্টারের নাম 



















