ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। রাজ্যের পাঁচটি জেলায় এখনো বন্যার প্রভাব বিদ্যমান, যার ফলে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যের শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং চরাইদেও জেলায় বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে, বৃহস্পতিবারের তুলনায় সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৯৯ জন মানুষের মধ্যে চরাইদেও জেলাতেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সেখানে অন্তত ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শিবসাগরে ৬৩ হাজার ৪৯২ জন এবং জোরহাটে ৩৪ হাজার ৬৭ জন বানের জলে দুর্ভোগে পড়েছেন।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে রাজ্য সরকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যানবাহন, গবাদি পশু ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ দ্রুত পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফসি) ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের ৫৪টি ত্রাণশিবিরে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া, ২৬টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে আরো ৫ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের জন্য তহবিল বরাদ্দের লক্ষ্যে ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়নে জোর দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















