চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, অতীতে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। খাল ও ড্রেন দখল, পার্কিং সুবিধাবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা ও যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার (কোনো এক সময়ে) চট্টগ্রামের খসড়া মাস্টারপ্ল্যানের ওপর জনমত গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বিদ্যমান সংকট নিরসনে শহরের পরিধি বাড়ানো অপরিহার্য। যানজট নিরসনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং বেসরকারি স্কুল ও হাসপাতালগুলোকে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
নতুন মাস্টারপ্ল্যানের বিস্তারিত তুলে ধরে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় আনোয়ারা-কর্ণফুলী, পটিয়া পৌরসভা, হাটহাজারী, রাউজান, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া ও সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই সম্প্রসারিত এলাকায় ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের জন্য উন্নত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক নগরী গড়ে তোলা, যেখানে নগরবাসী শহরে কাজ শেষে নির্বিঘ্নে আশপাশের আবাসিক এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন। এই মহাপরিকল্পনায় শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, ভূমিধস প্রতিরোধ, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, এই মাস্টারপ্ল্যানের গণশুনানি শিগগিরই শুরু হবে। বর্তমানে পরিকল্পনাটির ভৌত অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৯.৬৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। গণশুনানি শেষে এটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলসহ বিভিন্ন সমাজকর্মী, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও নগর পরিকল্পনাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 





















