ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াল ফিফা

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অবশেষে বিশ্বকাপ-কেন্দ্রিক বেসরকারি বিনিয়োগের আলোচিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একটি গভীর রাতের বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যেহেতু এই পরিকল্পনা নিয়ে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তাই প্রস্তাবটি আর সামনে এগোবে না।’

এর আগে গত মঙ্গলবার ফিফা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার ধরে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তহবিল তোলার লক্ষ্য ছিল সংস্থার। এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো মূল টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ফিফার ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পেত। পাশাপাশি ২০২৭–২০৩০ মেয়াদের নিয়মিত বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করার সুযোগ ছিল।

তবে এফএফইতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ক্ষুদ্র পরিসরে শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং সাফ জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত ইউরোপের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।

এক বিবৃতিতে উয়েফা স্পষ্ট ভাষায় বলে, ‘বিশ্বকাপকে কেবল একটি বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’ পরবর্তী সময়ে উয়েফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসি এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশন কনকাকাফ। ৪৭টি সদস্যদেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এএফসি এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ‘পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যারা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা, জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াল ফিফা

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অবশেষে বিশ্বকাপ-কেন্দ্রিক বেসরকারি বিনিয়োগের আলোচিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একটি গভীর রাতের বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যেহেতু এই পরিকল্পনা নিয়ে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তাই প্রস্তাবটি আর সামনে এগোবে না।’

এর আগে গত মঙ্গলবার ফিফা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার ধরে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তহবিল তোলার লক্ষ্য ছিল সংস্থার। এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো মূল টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ফিফার ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পেত। পাশাপাশি ২০২৭–২০৩০ মেয়াদের নিয়মিত বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করার সুযোগ ছিল।

তবে এফএফইতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ক্ষুদ্র পরিসরে শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং সাফ জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত ইউরোপের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।

এক বিবৃতিতে উয়েফা স্পষ্ট ভাষায় বলে, ‘বিশ্বকাপকে কেবল একটি বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’ পরবর্তী সময়ে উয়েফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসি এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশন কনকাকাফ। ৪৭টি সদস্যদেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এএফসি এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ‘পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যারা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’