ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ভেনেজুয়েলার পর লিবিয়ার তেল সম্পদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নজর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ের মধ্যে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করে ট্রাম্প প্রশাসন ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থের ব্যয় সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এবার ট্রাম্পের নজর পড়েছে লিবিয়ার তেল সম্পদের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোসের মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহের মূল কারণ দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা সীমিত ছিল। তবে হঠাৎ করে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ অন্যান্যদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। এই কোম্পানিগুলো লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী গত ১৮ জুন ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতপূর্ণ লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা লিবিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও আলোচনার পথ খুলে দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা, জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ

ভেনেজুয়েলার পর লিবিয়ার তেল সম্পদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নজর

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ের মধ্যে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করে ট্রাম্প প্রশাসন ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থের ব্যয় সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এবার ট্রাম্পের নজর পড়েছে লিবিয়ার তেল সম্পদের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোসের মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহের মূল কারণ দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা সীমিত ছিল। তবে হঠাৎ করে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ অন্যান্যদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। এই কোম্পানিগুলো লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী গত ১৮ জুন ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতপূর্ণ লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা লিবিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও আলোচনার পথ খুলে দেবে।