ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন: বেসামরিক কর্মীরা শঙ্কিত, সেনা সদস্যদের বেতন নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) মধ্যেও সেনা সদস্যদের বেতন প্রদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১১ অক্টোবর) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। তবে এই শাটডাউনের অজুহাতে ইতোমধ্যে বেসামরিক কর্মীদের ছাঁটাই শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় মার্কিন সরকার পুরোপুরি শাটডাউনে চলে গেছে। অর্থছাড় না হওয়ার অজুহাতে বেসামরিক কর্মীদের ছাঁটাই শুরু হলেও, সামরিক কর্মীরা যাতে আগামী বুধবার তাদের নির্ধারিত পে-চেক থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হেগসেথকে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে এবং যেকোনো তহবিলের অর্থ ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “দেশের সেনাবাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তাকে ডেমোক্র্যাটদের শাটডাউনে জিম্মি হতে দেব না। কট্টর বামপন্থি ডেমোক্র্যাটরা সরকার পুনরায় চালু করুক। তারপর আমরা স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।”

বাজেট নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারার দায় নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ চাপাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমাতে করছাড় সুবিধা বজায় রাখা এবং মেডিকেইডের জন্য বরাদ্দ হ্রাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবিতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অচলাবস্থা কাটাতে এই বিষয়ে শিগগিরই দ্বন্দ্ব নিরসন করা প্রয়োজন। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা অপ্রয়োজনে সরকারকে অচল করে রেখেছে, যার প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে।

মোট ফেডারেল কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত লাখ সরকারি কর্মচারী বর্তমানে বেতনহীন ছুটি বা বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর অনেক কর্মীকে ‘অপরিহার্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যার অর্থ তারা বেতন না পেলেও দায়িত্ব পালনে বাধ্য। আইন অনুযায়ী, অচলাবস্থা শেষে কর্মীদের বকেয়া বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বকেয়া বুঝে পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, অচলাবস্থার মধ্যে সামরিক বাহিনীর বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা কিছুটা রাজনৈতিক চাপ কমাতে পারে। তবে প্রশাসন আরও কঠোর পথে হেঁটে হাজার হাজার সরকারি কর্মীকে ছাঁটাই করা শুরু করেছে— যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন। হোয়াইট হাউজের বাজেট কার্যালয়ের পরিচালক রাসেল ভট শুক্রবার এক্সে লিখেছেন, “ছাঁটাই শুরু হয়েছে।” পরে প্রশাসন জানায়, সাতটি সরকারি সংস্থার চার হাজারের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই ছাঁটাইয়ের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসির ওয়াশিংটন অফিসের কর্মীরা, যারা ইবোলা প্রতিরোধ, টিকাদান কর্মসূচি ও মৃত্যুহার সংক্রান্ত সাপ্তাহিক প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করতেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু নিক্সন জানান, ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা ‘অপরিহার্য নন’। ট্রাম্পের ‘মেইক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয় সংস্থাগুলো বন্ধ করছে প্রশাসন। জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সাইবারসিকিউরিটি সংস্থার কর্মীরাও ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন।

এদিকে, সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়ন এএফজিই এবং এএফএল-সিআইও ছাঁটাই বন্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মামলা করেছে। এএফজিই সভাপতি এভারেট কেলি বলেছেন, “সরকার অচলাবস্থাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে হাজার হাজার কর্মীকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করছে, যারা মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিতেন। পুরো বিষয়টি লজ্জাজনক।” হোয়াইট হাউজের বাজেট অফিস জানিয়েছে, ছাঁটাই কেবল শুরু হয়েছে। আদালতে দাখিল করা এক নথিতে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শিক্ষা, বাণিজ্য, আবাসন, জ্বালানি ও পরিবেশ সংস্থা থেকেও আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন: বেসামরিক কর্মীরা শঙ্কিত, সেনা সদস্যদের বেতন নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) মধ্যেও সেনা সদস্যদের বেতন প্রদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১১ অক্টোবর) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। তবে এই শাটডাউনের অজুহাতে ইতোমধ্যে বেসামরিক কর্মীদের ছাঁটাই শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় মার্কিন সরকার পুরোপুরি শাটডাউনে চলে গেছে। অর্থছাড় না হওয়ার অজুহাতে বেসামরিক কর্মীদের ছাঁটাই শুরু হলেও, সামরিক কর্মীরা যাতে আগামী বুধবার তাদের নির্ধারিত পে-চেক থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হেগসেথকে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে এবং যেকোনো তহবিলের অর্থ ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “দেশের সেনাবাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তাকে ডেমোক্র্যাটদের শাটডাউনে জিম্মি হতে দেব না। কট্টর বামপন্থি ডেমোক্র্যাটরা সরকার পুনরায় চালু করুক। তারপর আমরা স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।”

বাজেট নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারার দায় নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ চাপাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমাতে করছাড় সুবিধা বজায় রাখা এবং মেডিকেইডের জন্য বরাদ্দ হ্রাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবিতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অচলাবস্থা কাটাতে এই বিষয়ে শিগগিরই দ্বন্দ্ব নিরসন করা প্রয়োজন। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা অপ্রয়োজনে সরকারকে অচল করে রেখেছে, যার প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে।

মোট ফেডারেল কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত লাখ সরকারি কর্মচারী বর্তমানে বেতনহীন ছুটি বা বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর অনেক কর্মীকে ‘অপরিহার্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যার অর্থ তারা বেতন না পেলেও দায়িত্ব পালনে বাধ্য। আইন অনুযায়ী, অচলাবস্থা শেষে কর্মীদের বকেয়া বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বকেয়া বুঝে পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, অচলাবস্থার মধ্যে সামরিক বাহিনীর বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা কিছুটা রাজনৈতিক চাপ কমাতে পারে। তবে প্রশাসন আরও কঠোর পথে হেঁটে হাজার হাজার সরকারি কর্মীকে ছাঁটাই করা শুরু করেছে— যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন। হোয়াইট হাউজের বাজেট কার্যালয়ের পরিচালক রাসেল ভট শুক্রবার এক্সে লিখেছেন, “ছাঁটাই শুরু হয়েছে।” পরে প্রশাসন জানায়, সাতটি সরকারি সংস্থার চার হাজারের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই ছাঁটাইয়ের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসির ওয়াশিংটন অফিসের কর্মীরা, যারা ইবোলা প্রতিরোধ, টিকাদান কর্মসূচি ও মৃত্যুহার সংক্রান্ত সাপ্তাহিক প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করতেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু নিক্সন জানান, ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা ‘অপরিহার্য নন’। ট্রাম্পের ‘মেইক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয় সংস্থাগুলো বন্ধ করছে প্রশাসন। জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সাইবারসিকিউরিটি সংস্থার কর্মীরাও ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন।

এদিকে, সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়ন এএফজিই এবং এএফএল-সিআইও ছাঁটাই বন্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মামলা করেছে। এএফজিই সভাপতি এভারেট কেলি বলেছেন, “সরকার অচলাবস্থাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে হাজার হাজার কর্মীকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করছে, যারা মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিতেন। পুরো বিষয়টি লজ্জাজনক।” হোয়াইট হাউজের বাজেট অফিস জানিয়েছে, ছাঁটাই কেবল শুরু হয়েছে। আদালতে দাখিল করা এক নথিতে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শিক্ষা, বাণিজ্য, আবাসন, জ্বালানি ও পরিবেশ সংস্থা থেকেও আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।