২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। ঢাকা তখন এক থমথমে নগরী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনে ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সেই উত্তাল সময়ে রাজধানীজুড়ে জারি ছিল কঠোর কারফিউ। সেই বিভীষিকাময় রাতে পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তৎকালীন এক চিকিৎসক।
সেই সময়ের প্রশাসনিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী না হওয়ায় অনেক চিকিৎসককেই কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। তবুও বিবেকের তাড়নায় এবং আহতদের সেবায় সেদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। চারদিকে পিনপতন নীরবতা, মাঝেমধ্যে কেবল টহলরত পুলিশের সাইরেন আর থমথমে পরিবেশ। পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে পায়ে হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছানোর সেই পথ ছিল আতঙ্কে ঘেরা।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। আন্দোলনে আহত শত শত মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছিল হাসপাতালের বাতাস। সীমিত জনবল আর প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন সেবা দিতে। সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা কীভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করেছিল, তা আজও সেই রাতের প্রত্যক্ষদর্শীদের হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে।
২০২৬ সালের আজকের বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে সেই দিনগুলো এখন এক দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়। ছাত্র-জনতার সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে এখন সেই সময়ের স্মৃতিগুলো ইতিহাসের অংশ। তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়ন আর কারফিউর সেই রাতগুলো আজও মনে করিয়ে দেয় একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার পেছনের চরম আত্মত্যাগের কথা।
রিপোর্টারের নাম 
























