ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দাদনের ফাঁদে সীতাকুণ্ডের ৫ হাজার জেলে, ইলিশের বাজার অস্থির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলীয় ১৯টি মাছঘাটে প্রতিদিন ইলিশভর্তি ট্রলার ভিড়ছে। ঘাটগুলোতে মাছ খালাস, বরফজাতকরণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান পাঠানোর ব্যস্ততা থাকলেও স্থানীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কম। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ মাছ আড়ত থেকেই ট্রাকভর্তি করে ঢাকা, যশোর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে, এমনকি কিছু অংশ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাদননির্ভর মৎস্য বাণিজ্য, আড়তকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট এবং বহিরাগত পাইকারদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাজারে ইলিশের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দাদনের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি জেলে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সীতাকুণ্ড পৌরসভার উত্তর বাজারের মাছের আড়তকে ঘিরেই সবচেয়ে বড় পাইকারি বেচাকেনা হয়। এসব আড়তের নিয়ন্ত্রণ মূলত বহিরাগত পাইকার বা বেহারি ব্যবসায়ীদের হাতে, যারা নগদ অর্থের জোরে একযোগে বিপুল পরিমাণ মাছ কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন।

বর্তমানে আকারভেদে প্রতি মণ ইলিশ ১৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। ফলে উপকূলের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিশ এখন একটি বিলাসী খাদ্যে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৫ হাজার ৪১৮ জন জেলে রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নিজস্ব পুঁজিহীন। ট্রলারের জ্বালানি, বরফ, জাল মেরামত ও খাদ্য ব্যয়ের জন্য মৌসুমের শুরুতেই আড়তদার ও মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিতে তারা বাধ্য হন। দাদনের শর্ত অনুযায়ী, ধরা সব মাছ নির্ধারিত আড়তেই বিক্রি করতে হয়। ফলে বাজারে ইলিশের দাম বাড়লেও তার সুফল জেলেরা পান না। লাভের বড় অংশ চলে যায় দাদনদাতা, আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। অনেক জেলে বছরের পর বছর ঋণের এই চক্র থেকে বের হতে পারছেন না। সোনাইছড়ি উপকূলের জেলে অনু জলদাস আমার দেশকে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরি। কিন্তু দাদনের কারণে নিজের ইচ্ছামতো মাছ বিক্রি করতে পারি না। সব হিসাব শেষে লাভের বড় অংশ মহাজনের হাতে চলে যায়। আমরা শুধু শ্রম দিই।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের পরেই তেহরানের কৌশলগত পরিবর্তন, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

দাদনের ফাঁদে সীতাকুণ্ডের ৫ হাজার জেলে, ইলিশের বাজার অস্থির

আপডেট সময় : ১২:০২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলীয় ১৯টি মাছঘাটে প্রতিদিন ইলিশভর্তি ট্রলার ভিড়ছে। ঘাটগুলোতে মাছ খালাস, বরফজাতকরণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান পাঠানোর ব্যস্ততা থাকলেও স্থানীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কম। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ মাছ আড়ত থেকেই ট্রাকভর্তি করে ঢাকা, যশোর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে, এমনকি কিছু অংশ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাদননির্ভর মৎস্য বাণিজ্য, আড়তকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট এবং বহিরাগত পাইকারদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাজারে ইলিশের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দাদনের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি জেলে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সীতাকুণ্ড পৌরসভার উত্তর বাজারের মাছের আড়তকে ঘিরেই সবচেয়ে বড় পাইকারি বেচাকেনা হয়। এসব আড়তের নিয়ন্ত্রণ মূলত বহিরাগত পাইকার বা বেহারি ব্যবসায়ীদের হাতে, যারা নগদ অর্থের জোরে একযোগে বিপুল পরিমাণ মাছ কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন।

বর্তমানে আকারভেদে প্রতি মণ ইলিশ ১৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। ফলে উপকূলের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিশ এখন একটি বিলাসী খাদ্যে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৫ হাজার ৪১৮ জন জেলে রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নিজস্ব পুঁজিহীন। ট্রলারের জ্বালানি, বরফ, জাল মেরামত ও খাদ্য ব্যয়ের জন্য মৌসুমের শুরুতেই আড়তদার ও মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিতে তারা বাধ্য হন। দাদনের শর্ত অনুযায়ী, ধরা সব মাছ নির্ধারিত আড়তেই বিক্রি করতে হয়। ফলে বাজারে ইলিশের দাম বাড়লেও তার সুফল জেলেরা পান না। লাভের বড় অংশ চলে যায় দাদনদাতা, আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। অনেক জেলে বছরের পর বছর ঋণের এই চক্র থেকে বের হতে পারছেন না। সোনাইছড়ি উপকূলের জেলে অনু জলদাস আমার দেশকে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরি। কিন্তু দাদনের কারণে নিজের ইচ্ছামতো মাছ বিক্রি করতে পারি না। সব হিসাব শেষে লাভের বড় অংশ মহাজনের হাতে চলে যায়। আমরা শুধু শ্রম দিই।’