ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে এম্বোলোর লাল কার্ড বিতর্ক: ফিফার অবস্থান স্পষ্ট

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল, সে বিষয়ে এবার মুখ খুলেছে বিশ্ব ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। সংস্থাটি তাদের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় ওই সিদ্ধান্তকে নিয়মের ভুল প্রয়োগ হিসেবে উল্লেখ করলেও, ফিফা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল এবং ফুটবলের আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইএফএবির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহার করে ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ ধারাটি কেবল অপরাধ করা খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করার জন্যই ব্যবহার করা উচিত। কোনো ঘটনার প্রকৃতি পরিবর্তন বা শাস্তির ধরণ নির্ধারণে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা নিয়মের সঠিক প্রয়োগ ছিল না।

কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। আইএফএবির মতে, ওই পরিস্থিতিতে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা ফুটবলের আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তবে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়েই একই ব্যাখ্যা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে মিগেল আলমিরনের হলুদ কার্ডের ঘটনাটিও তুলে ধরেছে। ফিফার ভাষ্যমতে, “২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ ব্যাখ্যা একইভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এম্বোলোর ঘটনাতেও ভিএআর পর্যালোচনার পর একই নীতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ফিফা আরও বলেছে, “সিমুলেশনের কারণে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হওয়া উচিত নয়, যার ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে বহিষ্কার হওয়া বা হলুদ কার্ড জমে নিষেধাজ্ঞার মতো অতিরিক্ত শাস্তি তৈরি হয়। আমাদের সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল সেই অন্যায় পরিস্থিতি এড়ানো।”

আইএফএবির পর্যবেক্ষণকে সম্মান জানালেও, ফিফা রেফারি বা ভিএআরের কোনো ভুল দেখছে না। ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা এটিকে রেফারি বা ভিএআরের ভুল বলে মনে করি না। এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে। আইএফএবির সার্কুলারে দেওয়া মন্তব্য আমরা বিবেচনায় নিয়েছি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তারা নিশ্চিত করেছে, এই ব্যাখ্যা বৈধ এবং ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।” একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তি এড়াতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে উদ্বেগ

বিশ্বকাপে এম্বোলোর লাল কার্ড বিতর্ক: ফিফার অবস্থান স্পষ্ট

আপডেট সময় : ১২:০০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল, সে বিষয়ে এবার মুখ খুলেছে বিশ্ব ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। সংস্থাটি তাদের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় ওই সিদ্ধান্তকে নিয়মের ভুল প্রয়োগ হিসেবে উল্লেখ করলেও, ফিফা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল এবং ফুটবলের আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইএফএবির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহার করে ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ ধারাটি কেবল অপরাধ করা খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করার জন্যই ব্যবহার করা উচিত। কোনো ঘটনার প্রকৃতি পরিবর্তন বা শাস্তির ধরণ নির্ধারণে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা নিয়মের সঠিক প্রয়োগ ছিল না।

কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। আইএফএবির মতে, ওই পরিস্থিতিতে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা ফুটবলের আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তবে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়েই একই ব্যাখ্যা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে মিগেল আলমিরনের হলুদ কার্ডের ঘটনাটিও তুলে ধরেছে। ফিফার ভাষ্যমতে, “২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ ব্যাখ্যা একইভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এম্বোলোর ঘটনাতেও ভিএআর পর্যালোচনার পর একই নীতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ফিফা আরও বলেছে, “সিমুলেশনের কারণে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হওয়া উচিত নয়, যার ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে বহিষ্কার হওয়া বা হলুদ কার্ড জমে নিষেধাজ্ঞার মতো অতিরিক্ত শাস্তি তৈরি হয়। আমাদের সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল সেই অন্যায় পরিস্থিতি এড়ানো।”

আইএফএবির পর্যবেক্ষণকে সম্মান জানালেও, ফিফা রেফারি বা ভিএআরের কোনো ভুল দেখছে না। ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা এটিকে রেফারি বা ভিএআরের ভুল বলে মনে করি না। এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে। আইএফএবির সার্কুলারে দেওয়া মন্তব্য আমরা বিবেচনায় নিয়েছি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তারা নিশ্চিত করেছে, এই ব্যাখ্যা বৈধ এবং ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।” একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তি এড়াতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।