ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

হাতিয়ায় সরকারি হাসপাতালে প্রথমবার সর্পদংশন-বিরোধী বিষপ্রয়োগে শিশুর জীবন রক্ষা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি স্নেক ভেনম (সর্পদংশন-বিরোধী বিষনাশক) প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। এই সফল চিকিৎসা পদ্ধতিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা যায়, গত শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ উদ্দিনের আট বছর বয়সী ছেলে রাহাত মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়। প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন কবিরাজের শরণাপন্ন হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল হোসেন নিলয় জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষধর সাপের দংশনের একাধিক লক্ষণ শনাক্ত করা হয়। রোগীর মধ্যে ঘাড় ভেঙে পড়া (Broken Neck Sign), চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এছাড়া, ২০ মিনিট ক্লট অবজারভেশন টেস্ট (20 Minute Clot Observation Test) করে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে পরামর্শক্রমে হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়।

শিশুটির বাবা ফিরোজ উদ্দিন হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ছেলের অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল, হয়তো আর বাঁচবে না। ডাক্তাররা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার ছেলে এখন অনেকটাই সুস্থ।’

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, ‘এটি হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগের ঘটনা। চিকিৎসক, নার্স, স্যাকমো, স্টোর কিপার, ওয়ার্ড বয় ও আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও দক্ষতার সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি: এক নারীর মৃত্যু, জুলাইয়ে আক্রান্ত সাড়ে চারশ ছাড়াল

হাতিয়ায় সরকারি হাসপাতালে প্রথমবার সর্পদংশন-বিরোধী বিষপ্রয়োগে শিশুর জীবন রক্ষা

আপডেট সময় : ০৮:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি স্নেক ভেনম (সর্পদংশন-বিরোধী বিষনাশক) প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। এই সফল চিকিৎসা পদ্ধতিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা যায়, গত শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ উদ্দিনের আট বছর বয়সী ছেলে রাহাত মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়। প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন কবিরাজের শরণাপন্ন হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল হোসেন নিলয় জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষধর সাপের দংশনের একাধিক লক্ষণ শনাক্ত করা হয়। রোগীর মধ্যে ঘাড় ভেঙে পড়া (Broken Neck Sign), চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এছাড়া, ২০ মিনিট ক্লট অবজারভেশন টেস্ট (20 Minute Clot Observation Test) করে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে পরামর্শক্রমে হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়।

শিশুটির বাবা ফিরোজ উদ্দিন হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ছেলের অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল, হয়তো আর বাঁচবে না। ডাক্তাররা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার ছেলে এখন অনেকটাই সুস্থ।’

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, ‘এটি হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগের ঘটনা। চিকিৎসক, নার্স, স্যাকমো, স্টোর কিপার, ওয়ার্ড বয় ও আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও দক্ষতার সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’