ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ভারতে গণবিক্ষোভের মুখে মোদি সরকার, শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ১২ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। এই আন্দোলনের জেরে তাকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমন এক সরকারের জন্য বড় ধাক্কা, যারা দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধিতাহীন শাসনের ভাবমূর্তি ধরে রেখেছিল।

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বাধীন জেনজিদের আন্দোলন ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় এবং এরপর আত্মহত্যা করে একাধিক শিক্ষার্থী। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

যদিও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথম দিকে আন্দোলনকারীদের দাবির সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, শুক্রবার রাতে এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি তরুণদের উদ্দেশে কথা বলেন এবং তাদের ‘গঠনমূলক পরামর্শের’ জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে আন্দোলনকারীরা একে ব্যঙ্গ করে আরো প্রতিবাদী প্রচারণা চালায়। পরদিন শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেও আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিকমাধ্যমে তরুণদের ব্যাপক সক্রিয়তা সরকারের প্রচলিত প্রচারণা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে জনমত নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা দেখিয়ে আসলেও, এবার লাখ লাখ তরুণের তৈরি মিম, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা সরকারের সেই প্রভাবকে দুর্বল করে দেয়। মোদির তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তাও অনলাইনে ব্যাপক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মুখে পড়ে। আন্দোলনের সময় মূলধারার কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, শুরুতে এসব চ্যানেল বিক্ষোভের খবর এড়িয়ে যায় এবং পরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তি বা পাকিস্তানি গোষ্ঠীর মদদের অভিযোগ তোলে। এর জবাবে আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব দাবির বিরোধিতা করে এবং সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫শ মিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

ভারতে গণবিক্ষোভের মুখে মোদি সরকার, শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ

আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ১২ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। এই আন্দোলনের জেরে তাকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমন এক সরকারের জন্য বড় ধাক্কা, যারা দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধিতাহীন শাসনের ভাবমূর্তি ধরে রেখেছিল।

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বাধীন জেনজিদের আন্দোলন ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় এবং এরপর আত্মহত্যা করে একাধিক শিক্ষার্থী। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

যদিও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথম দিকে আন্দোলনকারীদের দাবির সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, শুক্রবার রাতে এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি তরুণদের উদ্দেশে কথা বলেন এবং তাদের ‘গঠনমূলক পরামর্শের’ জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে আন্দোলনকারীরা একে ব্যঙ্গ করে আরো প্রতিবাদী প্রচারণা চালায়। পরদিন শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেও আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিকমাধ্যমে তরুণদের ব্যাপক সক্রিয়তা সরকারের প্রচলিত প্রচারণা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে জনমত নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা দেখিয়ে আসলেও, এবার লাখ লাখ তরুণের তৈরি মিম, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা সরকারের সেই প্রভাবকে দুর্বল করে দেয়। মোদির তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তাও অনলাইনে ব্যাপক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মুখে পড়ে। আন্দোলনের সময় মূলধারার কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, শুরুতে এসব চ্যানেল বিক্ষোভের খবর এড়িয়ে যায় এবং পরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তি বা পাকিস্তানি গোষ্ঠীর মদদের অভিযোগ তোলে। এর জবাবে আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব দাবির বিরোধিতা করে এবং সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।