ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনকারীদের জামায়াতপন্থী মৌলবাদী আখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর, বিদেশি মদদের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিককালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় জামায়াতপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী নন, বরং তারা জামায়াতপন্থী মৌলবাদী এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কিনা, তা তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা সহিংসতায় জড়িত, তারা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তারা শিক্ষার্থী নয়, তারা জামায়াতি (ইসলামপন্থি) মৌলবাদী। তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কিনা, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়।

এই ঘটনার পর সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।

এর আগে বিধানসভাতেও তিনি দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ উলফের মেন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম বাজেট ঘোষণা: ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার প্রস্তাব

পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনকারীদের জামায়াতপন্থী মৌলবাদী আখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর, বিদেশি মদদের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিককালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় জামায়াতপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী নন, বরং তারা জামায়াতপন্থী মৌলবাদী এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কিনা, তা তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা সহিংসতায় জড়িত, তারা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তারা শিক্ষার্থী নয়, তারা জামায়াতি (ইসলামপন্থি) মৌলবাদী। তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কিনা, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়।

এই ঘটনার পর সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।

এর আগে বিধানসভাতেও তিনি দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ উলফের মেন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।