ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়েই থাকছেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

বঙ্গভবনের দায়িত্ব ছাড়ার পরও সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়ের আওতাতেই থাকছেন। গত শুক্রবার তার পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ওঠার আগেই সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে, বিধান অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আজীবন পেনশনসহ একাধিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এর ফলে, রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেও রাষ্ট্রের প্রটোকল ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তার জন্য এখনো বহাল থাকছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (প্রটেকশন) নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় যা যা করা দরকার, সেসব করা হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সমন্বয় করবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলশান-২-এর ১২৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনের পঞ্চমতলার নিজস্ব ফ্ল্যাটেই অবস্থান করবেন সাহাবুদ্দিন। বাসভবনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ভবনের প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন, আশপাশে সাদা পোশাকের সদস্যদের নজরদারি, প্রয়োজনীয় যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আজ রোববার গুলশানের বাসাটিতে ওঠার কথা রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতির।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পেনশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলেও তিনি আজীবন নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ও প্রটোকল সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন। ২০২৩ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও এই আইনি সুযোগ-সুবিধার আওতায় এসেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা চালু থাকছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা, ভ্রমণ ও অবস্থান সুবিধা, আজীবন পেনশন ও ভাতা ইত্যাদি। বর্তমান আইনে পেনশনের পরিমাণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ। চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি মাসিক পেনশনের পরিবর্তে এককালীন গ্র্যাচুইটিও গ্রহণ করতে পারেন। আইন অনুযায়ী, তিনি যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি পেনশন পান, তাহলে দুটি পেনশন একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবেন না, একটি বেছে নিতে হবে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরাও কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীর হত্যা: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রশাসনকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন

রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়েই থাকছেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

আপডেট সময় : ০৯:১৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গভবনের দায়িত্ব ছাড়ার পরও সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়ের আওতাতেই থাকছেন। গত শুক্রবার তার পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ওঠার আগেই সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে, বিধান অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আজীবন পেনশনসহ একাধিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এর ফলে, রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেও রাষ্ট্রের প্রটোকল ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তার জন্য এখনো বহাল থাকছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (প্রটেকশন) নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় যা যা করা দরকার, সেসব করা হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সমন্বয় করবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলশান-২-এর ১২৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনের পঞ্চমতলার নিজস্ব ফ্ল্যাটেই অবস্থান করবেন সাহাবুদ্দিন। বাসভবনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ভবনের প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন, আশপাশে সাদা পোশাকের সদস্যদের নজরদারি, প্রয়োজনীয় যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আজ রোববার গুলশানের বাসাটিতে ওঠার কথা রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতির।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পেনশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলেও তিনি আজীবন নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ও প্রটোকল সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন। ২০২৩ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও এই আইনি সুযোগ-সুবিধার আওতায় এসেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা চালু থাকছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা, ভ্রমণ ও অবস্থান সুবিধা, আজীবন পেনশন ও ভাতা ইত্যাদি। বর্তমান আইনে পেনশনের পরিমাণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ। চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি মাসিক পেনশনের পরিবর্তে এককালীন গ্র্যাচুইটিও গ্রহণ করতে পারেন। আইন অনুযায়ী, তিনি যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি পেনশন পান, তাহলে দুটি পেনশন একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবেন না, একটি বেছে নিতে হবে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরাও কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন।