ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা’: বিচার ও সংস্কারের দাবিতে আলোচনা সভা

‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ’ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভা শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে বিকাল ৪টায় বসে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক।

আলোচনার শুরুতে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক রাশিদুল হক তিমুর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে চাইলে প্রথমেই গণহত্যা ও ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের’ অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ সহজতর হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী তার বক্তব্যে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত্তি হিসেবে বাহাত্তরের সংবিধানকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের তরুণেরা প্রাণ দিয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ে আমাদের দেশে যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়, তা কোনো বহিরাগত শক্তির দ্বারা ঘটেনি। যখন কোনো দেশের সরকার এমন হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে, তাকে স্টেট স্পন্সরড টেররিজম বা রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ বলা হয়। আর্জেন্টিনা এবং চিলিতেও পূর্বে এমন হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করেছিল সে দেশগুলোর স্বৈরশাসকরা।

তিনি আরও বলেন, ট্রানজিশনাল জাস্টিস বা রূপান্তরকালীন বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিচার না থাকলে একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্ম হয়। যে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির কথা বলা হচ্ছে—এটি সবসময় আমাদের দেশে ছিল। যখন মানুষ সুবিচার পায় না, তখন আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করতে হলে আগে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বাহাত্তরের সংবিধানকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নকলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির করুণ মৃত্যু, পিকআপ আটক

‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা’: বিচার ও সংস্কারের দাবিতে আলোচনা সভা

আপডেট সময় : ১০:৪৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ’ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভা শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে বিকাল ৪টায় বসে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক।

আলোচনার শুরুতে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক রাশিদুল হক তিমুর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে চাইলে প্রথমেই গণহত্যা ও ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের’ অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ সহজতর হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী তার বক্তব্যে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত্তি হিসেবে বাহাত্তরের সংবিধানকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের তরুণেরা প্রাণ দিয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ে আমাদের দেশে যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়, তা কোনো বহিরাগত শক্তির দ্বারা ঘটেনি। যখন কোনো দেশের সরকার এমন হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে, তাকে স্টেট স্পন্সরড টেররিজম বা রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ বলা হয়। আর্জেন্টিনা এবং চিলিতেও পূর্বে এমন হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করেছিল সে দেশগুলোর স্বৈরশাসকরা।

তিনি আরও বলেন, ট্রানজিশনাল জাস্টিস বা রূপান্তরকালীন বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিচার না থাকলে একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্ম হয়। যে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির কথা বলা হচ্ছে—এটি সবসময় আমাদের দেশে ছিল। যখন মানুষ সুবিচার পায় না, তখন আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করতে হলে আগে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বাহাত্তরের সংবিধানকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দেন।