গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে সরকার বিপদে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে নেতারা সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তারা গণরায়কে অগ্রাহ্য করে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে চায়। অথচ জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায়, যার দ্বারা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সকল পথ রুদ্ধ হবে। নেতারা আরও মন্তব্য করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন অত্যন্ত জরুরি।
খেলাফত মজলিসের নেতারা সরকারকে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মজলিসে শূরা অধিবেশনে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের মাধ্যমে প্রদত্ত গণরায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সেপ্টেম্বরে বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মজলিসে শূরা অধিবেশনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, এটি মূলত নির্বাচনি সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ঐক্যের কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। যদিও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিল, এখন থেকে তারা ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়। সংসদে খেলাফত মজলিসের এমপি মহোদয় বিরোধী দলীয় ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবেন। শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
রিপোর্টারের নাম 





















