ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সৌদি-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের ইউটার্ন ও নতুন শর্ত

প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশ এই চুক্তিতে সই করে, যেখানে সৌদি আরব তাদের অনেক দাবি আদায়ে সক্ষম হয়েছিল।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ জানান, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে হবে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হওয়া একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। একই সঙ্গে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় চুক্তিটি এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, চুক্তি ঘোষণার আগেই ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন কারণ জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট তাকে না জানিয়েই চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছিলেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপাতে শুরু করেন।

একটি সূত্রমতে, হোয়াইট হাউস চেয়েছিল বুধবার চুক্তির ঘোষণা না দেওয়া হোক, কিন্তু ক্রিস রাইট অনুরোধ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যান। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র কংগ্রেসে না পাঠানোয় চুক্তিটি তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এই অবস্থায় হঠাৎ ঘোষণা দেওয়ায় ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্তের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের জ্বালানি দল এ ব্যাপারে পুরোপুরি একমত।’ অন্যদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বেন ডিটারিখ জানান, আলোচনা থেকে ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা কাজ করেছেন।

এই চুক্তি আটকে দেওয়া বা নতুন শর্ত চাপানোর পেছনে মার্কিন রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। ফক্স নিউজ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে নেত্রকোণায় একজনের মৃত্যু

সৌদি-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের ইউটার্ন ও নতুন শর্ত

আপডেট সময় : ১১:২০:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশ এই চুক্তিতে সই করে, যেখানে সৌদি আরব তাদের অনেক দাবি আদায়ে সক্ষম হয়েছিল।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ জানান, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে হবে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হওয়া একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। একই সঙ্গে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় চুক্তিটি এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, চুক্তি ঘোষণার আগেই ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন কারণ জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট তাকে না জানিয়েই চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছিলেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপাতে শুরু করেন।

একটি সূত্রমতে, হোয়াইট হাউস চেয়েছিল বুধবার চুক্তির ঘোষণা না দেওয়া হোক, কিন্তু ক্রিস রাইট অনুরোধ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যান। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র কংগ্রেসে না পাঠানোয় চুক্তিটি তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এই অবস্থায় হঠাৎ ঘোষণা দেওয়ায় ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্তের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের জ্বালানি দল এ ব্যাপারে পুরোপুরি একমত।’ অন্যদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বেন ডিটারিখ জানান, আলোচনা থেকে ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা কাজ করেছেন।

এই চুক্তি আটকে দেওয়া বা নতুন শর্ত চাপানোর পেছনে মার্কিন রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। ফক্স নিউজ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল।